নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যুক্তি। এজন্য ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা (ডিপিডিপি) আইন এনেছিল কেন্দ্র। কিন্তু এই আইন ঘুরিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করছে বলে অভিযোগ ওঠে। আইনটির বেশ কিছু ধারা ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দেশের ২১টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের যৌথ সংগঠন ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিএনপিএ)। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। যদিও এখনই আইনে স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আপনারাই বিশেষজ্ঞ। কীভাবে আইনের অপব্যবহার রোধ নিশ্চিত করা যায়, সেই বিষয়ে সরকার ও আমাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য আপনারাই সবচেয়ে উপযুক্ত। মানুষের অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা আপনারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বক্তব্য জানানোর জন্য কেন্দ্রকে এদিন নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১৭ নভেম্বর ফের ওই মামলার শুনানি। ২০২৩ সালে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট পাশ করায় কেন্দ্র। গত বছর আইনটির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে গঠিত ডিএনপিএ এদিন আদালতে জানায়, প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে টাটকা খবর প্রয়োজন। যদি সংবাদ প্রকাশের জন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি বা সম্মতি চাইতে হয়, তাহলে তার অর্থ কী থাকে? এমন নিয়ম কার্যকর হলে নিউজরুমগুলিই বন্ধ হয়ে যাবে। সংবাদমাধ্যমের উপর আগে থেকেই প্রেস কাউন্সিলের মতো বিভিন্ন সংস্থা নজরদারি চালায়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তথ্য সুরক্ষা আইন সাংবাদিকদের অনুসন্ধানমূলক খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বাধা তৈরি করবে। সাংবাদিকরা হয়ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে সম্মতি নিতে বাধ্য হবেন। তাতে প্রমাণ নষ্টের সুযোগ থাকবে। সাংবাদিকদের গোপন সূত্রও ফাঁস হয়ে যাবে। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের তোয়াক্কাই করে না বিজেপি সরকার। এই ভয়ংকর সেন্সারশিপের বিরুদ্ধে সকলকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।



