Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পাশ হওয়া বিল আটকে রাখা ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী’ পদক্ষেপ, তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে কড়া জবাব সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম তোপের মুখে পড়লেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি

পাশ হওয়া বিল আটকে রাখা ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী’ পদক্ষেপ, তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে কড়া জবাব সুপ্রিম কোর্টের
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ৮ এপ্রিল: সুপ্রিম তোপের মুখে পড়লেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকে রাখার জন্য তাঁকে আজ, মঙ্গলবার তীব্র ভর্ৎসনা করল শীর্ষ আদালত। সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছে, রাজ্যপাল এইভাবে রাজভবনে কোনও বিল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখতে পারেন না। আর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে সম্বোধন করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন। সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এটা শুধুই তামিলনাড়ুর নয়, দেশের সব রাজ্যের কাছেই বড় জয়।’

Advertisement

কারণ বিরোধী দল যে রাজ্যে ক্ষমতায় আছে সেখানেই সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন রাজ্যপালরা, এমনটাই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পশ্চিমবঙ্গ, কেরলের মতো রাজ্যে অ-বিজেপি দল ক্ষমতায় রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভায় কোনও বিল সর্বসম্মতিতে পাশ হলেও দীর্ঘদিন আটকে রাখেন রাজ্যপাল। কিছুতেই সই করতে চান না। রাজ্যের নানা বিষয়েও হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে রাজ্যপালের। কেরল, পশ্চিমবঙ্গের মতোই একই সমস্যায় জর্জরিত তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার। তাঁদের অভিযোগ ছিল বিধানসভায় পাশ হওয়া দশটি বিল দীর্ঘদিন ধরেই আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজ্যপালের এই ভূমিকার তীব্র বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তামিলনাড়ুর সরকার। সেই মামলার শুনানিতেই আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, যে অনন্তকাল ধরে বিল ঝুলিয়ে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল। আগামী তিন মাসের মধ্যেই ওই দশটি বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজ্যপালকে।

সঙ্গে শীর্ষ আদালত আরও জানায়, এই সময়ের মধ্যেই তাঁকে স্থির করতে হবে যে, তিনি কোনও বিলে সম্মতি দেবেন নাকি সেটি আবার বিধানসভায় ফেরত পাঠাবেন। আবার সেই বিলগুলি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন কিনা সেই বিষয়েও এই সময়কালের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজ্যপাল আর এন রবিকে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে ছিল শুনানি। তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের এহেন পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলেও দেগেছে দেশের শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি এই মামলার শুনানিতে রাজ্যপালকে সংবিধানের ২০০ অনুচ্ছেদের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 

সম্পর্কিত সংবাদ