


নয়াদিল্লি (পিটিআই): র্যাবিস বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত, দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্ত বা হিংস্র হয়ে ওঠা বিপজ্জনক পথকুকুরকে যন্ত্রণাহীনভাবে মেরে ফেলার (নিষ্কৃতিমৃত্যু) অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। সাধারণ মানুষের প্রাণসংশয় রুখতে এই প্রথম আগ্রাসি পথকুকুরের নিষ্কৃতিমৃত্যু ঘটানোর নির্দেশ জারি করল শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে পথকুকুরের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা মোকাবিলায় একঝাঁক পদক্ষেপের নির্দেশও জারি করেছে বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রেলস্টেশন সহ জনবহুল স্থানগুলি থেকে পথকুকুর সরানোর মতো পূর্বের নির্দেশগুলিও এদিন বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। ওই নির্দেশগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের আবেদনগুলি খারিজ করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত বলেছে, শিশু, বিদেশি পর্যটক ও বয়স্কদের যেভাবে পথকুকুরের কামড়ের শিকার হতে হচ্ছে, সেই কঠিন বাস্তব থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকা সম্ভব নয়।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, যেসব এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে বা যেখানে হামেশাই কামড় ও হামলার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানে প্রশাসন ও পুর কর্তৃপক্ষ এই প্রাণীগুলির নিষ্কৃতিমৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। অন্যান্য আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পশুরোগ বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে পশুদের উপর নির্দয়তা বিরোধী আইন (১৯৬০ সাল), পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (২০২৩) ও অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবদ্ধ নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
পথকুকুরের কামড়ে দিল্লিতে বিশেষ করে শিশুদের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্ত একটি মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে গত বছর ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করেছিল। পরবর্তীকালে সেই মামলারই পরিসর গোটা দেশজুড়ে বর্ধিত করে একাধিক নির্দেশ জারি করেছিল শীর্ষ আদালত। পথকুকুরের নির্বীজকরণ ও স্থানান্তর সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পেশ হওয়া আবেদনগুলিও এদিন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মর্যাদার সঙ্গে জীবনধারণের অধিকারের মধ্যেই পড়ে কুকুরের কামড় ও আক্রমণের আতঙ্কহীন মুক্ত চলাফেরার অধিকার। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এদিন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জনবহুল স্থান থেকে পথকুকুর তুলে শেল্টারে নিয়ে গিয়ে টীকাকরণের পর সেগুলিকে আর পূর্বের স্থানে ফেরানো যাবে না। এক্ষেত্রে
পূর্বের জারি হওয়া নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিগুলি পালন করে চলতে হবে।