


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আসানসোল, দুর্গাপুর, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে অবিলম্বে শুরু হতে চলেছে স্বচ্ছ ভারত মিশনের কাজ। এর পরের ধাপে কলকাতা ও হাওড়া যুক্ত হবে স্বচ্ছ ভারত মিশনে। এই কর্মসূচিতে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প রিপোর্ট কেন্দ্রকে জমা দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে এ কথা জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী।
স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় পাইলট প্রজেক্টের কাজ দ্রুত শুরু করতে চাইছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এই কর্মসূচির বাস্তব রূপায়ণে প্রধানত দুর্গাপুর এবং আসানসোল শিল্পাঞ্চলের কলকারখানাগুলিতে বিশেষ পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নিতে চলেছে তারা। এ কাজে যুক্ত করা হবে স্কুল পড়ুয়াদেরও। তাদের সচেতন করা হবে। শিশু-কিশোররা যাতে নিজের বসার জায়গা কিংবা শৌচালয় পরিচ্ছন্ন রাখতে শেখে তার প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন-আর্বান ২.০’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দেশের সবকটি রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে জাতীয়স্তরে পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। জানা গিয়েছে, বৈঠকের ফাঁকে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা আলোচনা করেন তিনি। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চলতি মাসের শেষদিকে পশ্চিমবঙ্গেও আসার কথা তাঁর। মন্ত্রীর বঙ্গ সফরের সময় কেন্দ্রীয় অর্থ সহযোগিতার প্রসঙ্গ তোলা হবে রাজ্যের পক্ষ থেকে। রাজের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এ বিষয়ে বলেন, ‘সম্ভবত গত ১০ বছরে রাজ্য সরকারের কোনো মন্ত্রী কিংবা আমলা এ ধরনের বৈঠকে প্রতিনিধিত্বই করেননি। ক্লিন সিটি সংক্রান্ত যে র্যাঙ্কিং করে কেন্দ্র তাতে বাংলা এতগুলি বছরে অংশই নেয়নি। শুধুমাত্র রাজনীতি করে বাংলার মানুষকে নাজেহাল করা হয়েছে। এবার এ সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবে রাজ্য সরকার।’ তিনি জানান, তাঁকে কার্যত ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন মনোহরলাল খট্টর। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য যদি প্রকল্প আনতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে টাকার জোগান কোনো বাধা হয়ে উঠবে না।
অগ্নিমিত্রা এদিন অভিযোগ করেন, স্বচ্ছ ভারত মিশন কর্মসূচিতে রাজ্যের পূর্বতন সরকার মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা খরচ করেছে। কেন্দ্র টাকা দিতে চাইলেও নেয়নি। যা নিয়েছে তার কোনো হিসাব জমা দেয়নি। অথচ বারবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, পুরসভাগুলির হিসাবের গরমিল সংক্রান্ত বিষয়ে অডিটের নির্দেশও দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা এ সংক্রান্ত কমিটি তৈরি করেছি। কোনো প্রকল্পের কাজ বন্ধ হবে না। শুধুমাত্র দুর্নীতিগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানান, আগের রাজ্য সরকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পাল্টে দিয়েছিল। যেমন পিএম আবাস হয়েছিল বাংলার বাড়ি কিংবা স্বচ্ছ ভারত পাল্টে গিয়েছিল নির্মল বাংলায়। এবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামেই এগুলির কাজ বাংলায় চালু করতে চলেছে বিজেপি। এছাড়া অগ্নিমিত্রা এদিন জানান, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। এ বিষয়ে বলেন, ‘বুলডোজার কোনো বিষয় নয়। বুলডোজার হোক কিংবা হাতুড়ি, অভিযান চলবেই। তবে অভিযুক্তদের সংশোধনের সময় দেওয়া হবে। কিন্তু কোনোমতেই রেয়াত করা হবে না।’