নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারত গৌরব পিআর শ্রীজেশের টক শো চলছে মঞ্চে। ওলিম্পিকস পদক জয়ী তারকাকে নিয়ে তখন অভিভূত কর্তা, অনুরাগীরা। হঠাত্ই ‘জয় ইস্ট বেঙ্গল, জয় ইস্ট বেঙ্গল’ স্লোগানে কেঁপে উঠল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। শ্রীজেশের অবাক দৃষ্টিও তখন প্রবেশদ্বারের দিকে। একে একে প্রবেশ করলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। আর বিষ্ণু, মিগুয়েল, বিপিনদের নিয়ে সমর্থকদের সে কী উচ্ছাস! স্লোগান-গর্জনে টক শো কিছুক্ষণ থামাতে হল। পদ্মভূষণ শ্রীজেশও টের পেলেন, কলকাতাকে কেন ফুটবলের মক্কা বলা হয়। ফুটবলারদের ঘিরে অনুরাগীদের আবেগ দেখে, তাঁর মুখে খেলে গেল হাজার ওয়াটের হাসি।
লাল-হলুদ উন্মাদনায় ইস্ট বেঙ্গলের ১০৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস সুপারহিট। সকালেই তাঁবুতে পতাকা উত্তোলনের পর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা। বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করতে দুপর থেকেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছিলেন অনুরাগীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাল-হলুদ জনতার চোখে ‘স্পর্ধার আগুন’। বলার অপেক্ষা রাখে না, মরশুমের প্রথম ডার্বি জয় উন্মাদনায় ঘি ঢেলেছে। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চেও চাঁদের হাট। প্রাক্তন ফুটবলার শ্যাম থাপা, ভাস্কর গাঙ্গুলি সহ বর্তমান ফুটবলার থেকে কোচ অস্কার ব্রুজোঁ— কে ছিলেন না! মনোময় ভট্টাচার্যের গান দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা। তারপরেই ১৯৭৫ সালে পাঁচ গোলের স্মৃতিচারণা। জীবনকৃতী সম্মানে ভূষিত করা হল প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিত্ মিত্র ও মিহির বসুকে। চিকিত্সার কারণে দেশের বাইরে রয়েছেন সত্যজিত্। তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রাক্তন ফুটবলার অশোক চন্দ। বিশেষ সম্মানে আপ্লুত মিহির বসু মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি গায়ে না চাপাতে পারলে জীবন বৃথা।’ ভারত গৌরবে ভূষিত পিআর শ্রীজেশের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বছরের সেরা মহিলা ও পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত সৌম্যা গুগুলথ ও শৌভিক চক্রবর্তী। উদীয়মান ফুটবলার পিভি বিষ্ণু। সেরা ক্রিকেটা কনিষ্ক শেঠ। পাশাপাশি ডার্বি জয়ী ইস্ট বেঙ্গলের রিজার্ভ দলকেও বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হল। আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোচ অস্কার ব্রুজোঁর শপথ, ‘আমরা করব জয়।’