সিঙ্গাপুর: দীর্ঘ সময় বাদে দেশের জার্সিতে গোল পেলেন কোনও বঙ্গসন্তান। বৃহস্পতিবার অ্যাওয়ে ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে স্কোরশিটে নাম তুললেন রহিম আলি। তাঁর সৌজন্যেই এএফসি এশিয়ান কাপে বাছাই পর্বে হার বাঁচাল ভারত। সেই সঙ্গে এশিয়ান কাপের মূলপর্বের যোগ্যতা অর্জনের আশা জিইয়ে রাখল খালিদ জামিল-ব্রিগেড। দিনের অপর ম্যাচে হংকংয়ের কাছে বাংলাদেশ ৩-৪ ব্যবধানে হারায় গ্রুপ-সি’তে তৃতীয় স্থানে ব্লু টাইগার্স (৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট)। আগামী ১৪ অক্টোবর ঘরের মাঠে ফের সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে নামে নামবেন সুনীল-গুরপ্রীতরা।
ভারতীয় কোচের পদে অভিষেকেই সাড়া ফেলেছিলেন খালিদ। তাঁর প্রশিক্ষণে কাফা নেশনস কাপে তৃতীয় স্থানে শেষ করে ব্লু টাইগার্স। তবে আমন্ত্রণীমূলক টুর্নামেন্ট আর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য এদিন টের পেলেন এই মুম্বইকর। আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিতে যে ম্যাচ জেতা যায় না, সেটা যত তাড়াতাড়ি ভারতীয় কোচ উপলব্ধি করবেন, ততই মঙ্গল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও বৃহস্পতিবার রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়েই দল সাজান খালিদ। ফলে শুরু থেকেই ভারতের উপর জাঁকিয়ে বসে সিঙ্গাপুর। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে রক্ষণের ব্যর্থতায় গোল হজম করে তারা। সিঙ্গাপুরের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন ইখসান ফান্ডি (১-০)। এদিন গোটা ম্যাচে কার্যত ঘুরে বেড়ালেন অবসর ভেঙে মাঠে ফেরা সুনীল।
বিরতির আগে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সন্দেশ ঝিংগান। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ানোয় জোর দেয় সিঙ্গাপুর। তবে এই পর্বে তিনকাঠির নিচে প্রাচীর হয়ে ওঠেন গুরপ্রীত। একইসঙ্গে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন খালিদ। সাহাল-উদান্তারা মাঠে নামতেই গতি বাড়ে। তবে কোনওমতেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না ভারত। একটা সময় মনে হচ্ছিল, খালি হাতেই ফিরতে হবে ভারতকে। তখনই নিজেদের অর্ধ থেকে ব্যাক পাস করেন সিঙ্গাপুরের জর্ডন এমাভিয়ে। আর সেই বল ফলো করে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ভুল হয়নি সুপার-সাব রহিমের (১-১)।
ভারত: গুরপ্রীত, রাহুল, আনোয়ার, সন্দেশ, উভেস, নিখিল (সাহাল), নিকসন (দীপক), ছাংতে (উদান্তা), ফারুখ (ভালপুইয়া), লিস্টন ও সুনীল (রহিম)।



