Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাস প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দ্বিতীয় পর্যায়ের সুপার চেকিংয়ে তৎপরতা

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঝাড়গ্রাম জেলার ২০ হাজার ১৮৩ জন টাকা পেয়েছেন। বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আরও ১৬ লক্ষ মানুষকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

আবাস প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দ্বিতীয় পর্যায়ের সুপার চেকিংয়ে তৎপরতা
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঝাড়গ্রাম জেলার ২০ হাজার ১৮৩ জন টাকা পেয়েছেন। বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আরও ১৬ লক্ষ মানুষকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ঘোষণার পরেই জেলা প্রশাসনের তরফে দ্বিতীয় পর্যায়ের সুপার চেকিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করে জেলার গ্ৰামীণ এলাকায়। আগে তাদের মাথাগোঁজার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল খড় ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া মাটির ঘর। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, হাতির হানায় সেই মাটির বাড়ি ভেঙে যাওয়া কার্যত স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়। বন্যার জল গ্ৰামে ঢুকে পড়লে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়। বৃষ্টিতে ঘরের ভাঙা ছাউনি দিয়ে জল ঢুকলে তা আটকাতে ত্রিপলই সম্বল ছিল। বছরের পর বছর ধরে এক চিলতে মাটির ঘরেই এখানকার বাসিন্দারা বসবাস করেছেন। আশা করছিলেন, দীর্ঘ বঞ্চনার পর পাকা বাড়ি পাবেন। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আটকে যাওয়ার পর পাকা বাড়ির স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী দরিদ্র মানুষের স্বার্থে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেন। তারপরও বাধা দেওয়া থেমে থাকেনি। বিজেপি নেতারা শাসক দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের এই প্রকল্পে বাড়ি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে জেলা প্রশাসন দরিদ্র মানুষদের পাকা বাড়ি দিতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যায়। তাঁরা বাড়ি পাচ্ছেন কি না, তা দেখতে তালিকা খতিয়ে দেখা শুরু হয়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ২০২২ সালে জেলায় ৫০ হাজার বাড়ির সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষা থেমে থাকেনি। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক নিজে সমীক্ষার কাজে এলাকা ঘুরতে শুরু করেন। আবাসের কাজ শুরু হয়েছে কি না, তা দেখতে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা উপভোক্তাদের বাড়ি যাওয়া শুরু করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের নিয়ে মানুষকে এবিষয়ে বোঝানো হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়ি তৈরির কাজ না হলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে যাওয়ার কথা বোঝানো হয়। তাতেই সাফল্য মিলতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব আদিবাসী দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সময় রাজ্যে ৪৭ লক্ষ মানুষ বাড়ি পেয়েছেন।  গত বছর ১২ লক্ষ মানুষকে নতুন করে বাড়ি দিয়েছি। আরও ১৬ লক্ষ লোক বাড়ি পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন। তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁরা বাড়ির অর্ধেক টাকা পাবেন। আবার মে মাসে বাদবাকি টাকা দেওয়া হবে। তারপরেও যাঁরা থাকবেন, তাঁদের নামের তালিকা রেখে দেওয়া হবে। ছ’মাস অন্তর অন্তর কাজ হবে। বাড়ি পাওয়া থেকে কেউ বাকি থাকবেন না। ঝাড়গ্রাম জেলার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নোডাল অফিসার শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই প্রকল্পের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। দপ্তরের তরফে সুপার চেকিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে। নয়াগ্ৰাম বিডিও সুদীপ্ত রায় বলেন, ব্লক অফিসার ও পঞ্চায়েতের কর্মীরা প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক কাজ করে চলেছেন। আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ