নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার ৭৬ পূর্ণ করছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানশিপের মুকুটহীন সম্রাট সুনীল গাভাসকর। বিনা হেলমেটে যিনি অনায়াসে সামলেছেন বিশ্বত্রাস সব পেসারদের। ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো তাই তাঁকে নিয়ে বেঁধেছিল গান, ‘আমরা কোনওভাবেই আউট করতে পারিনি গাভাসকরকে...।’
জন্মদিনের আবহে সানি অবশ্য ব্যস্ত থাকবেন লর্ডসে। ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যে তৃতীয় টেস্ট উপলক্ষে কমেন্ট্রি বক্সেই কাটবে সময়। সেখানেই হয়তো কেক কাটবেন। তবে দেশে থাকুন বা না-ই থাকুন, প্রাক্তন সহযোদ্ধারা আগাম শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন তাঁকে। বছর দুয়েকের ছোট মদনলাল নয়াদিল্লি থেকে বললেন, ‘অ্যাডভান্সড হ্যাপি বার্থডে সানি। সুস্থ থেকো, এভাবেই ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে থেকো।’ আরব সাগরের পাড় থেকে কারসন ঘাউড়িও গলা মেলালেন তাতে, ‘অগ্রিম শুভ জন্মদিন। একদম শুরুতে দাদার ইউনিয়ন ক্লাবের হয়ে খেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।’
মদনলাল ও ঘাউড়ি, দু’জনেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন সেরা সময়ের গাভাসকরকে। ১৯৮৫-র মেলবোর্নে বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপ জয়ী গাভাসকরের দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন মদনলাল। তাঁর মতে, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে সানি যে কত বড়, তা সবারই জানা। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও। দীর্ঘদিন খেলেছি একসঙ্গে। অনেক ঘটনা ভিড় করে আসছে মনে।’
মদনলালের সমবয়সি ঘাউড়ির মনের ক্যানভাসে ভাসছে ১৯৮১’র মেলবোর্ন টেস্ট জয়। সেই ম্যাচেই সঙ্গী ওপেনার চেতন চৌহানকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে উদ্যত হয়েছিলেন গাভাসকর। ঘাউড়ি শোনালেন ভারতীয় ক্রিকেটে লিটল মাস্টারের অবদানের কথা, ‘ভারতীয়রাও যে পেস বল খেলতে জানে, সেটা ও-ই বিশ্বকে দেখিয়েছিল। বুঝিয়েছিল, আমরা জোরে বোলিং খেলতে ভয় পাই না। দশ হাজার রানের মতো অনেক কীর্তিতে ওই প্রথমজন। সানি হচ্ছে বুক চেতানো লড়াইয়ের প্রতীক। ও কিন্তু হেলমেট ছাড়াই সামলেছে বাঘা বাঘা পেসারদের। তখন পিচও ঢাকা থাকত না।’ আর এখানেই গাভাসকর অনন্য!