Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ভারতের পারফরম্যান্সে খুশি সানিরা

শহরবাসীর ঘুম ভেঙেছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী দিয়ে। আর রাতে দু’চোখ এক করার আগে সঙ্গী হল বাইশ গজে পাক-নিধনের তৃপ্তি। সুপার ফোরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সূর্যকুমার যাদবদের দুরন্ত পরাক্রমে আরও রঙিন দেবীপক্ষের সূচনা লগ্ন।

ভারতের পারফরম্যান্সে খুশি সানিরা
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:  শহরবাসীর ঘুম ভেঙেছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী দিয়ে। আর রাতে দু’চোখ এক করার আগে সঙ্গী হল বাইশ গজে পাক-নিধনের তৃপ্তি। সুপার ফোরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সূর্যকুমার যাদবদের দুরন্ত পরাক্রমে আরও রঙিন দেবীপক্ষের সূচনা লগ্ন। সেজন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলের। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘জয়-বীরু’ জুটির বিধ্বংসী ব্যাটিংই ভেন্টিলেশনে পৌঁছে দেয় পাকিস্তানকে।

Advertisement

রবিবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১৭২ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই গিল-অভিষেক তুলে ফেলেন ১০৫। শুভমান ৪৭ করে আউট হলেও অভিষেক থামেননি। ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দিলেন বাঁহাতি ওপেনার। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। দুই তরুণ তুর্কিকে প্রশংসায় ভরাচ্ছে ক্রিকেটমহল। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর বলছিলেন, ‘অভিষেকের পাওয়ার হিটিংয়ে আমি মুগ্ধ। ছেলেটা কাউকে রেয়াত করে না। অকুতোভয় ক্রিকেট খেলে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে ফেলে দেয়। পাশাপাশি প্রশংসা করতে হবে শুভমানেরও। ও আবার অভিষেকের মতো এতো ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে না। মাটিঘেঁষা ক্রিকেটীয় শটে বোলারদের হতোদ্যম করে দেয়।’ 
শুধু সানিই নন, অভিষেককে প্রশংসা ভরালেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রামও। ম্যাচ শেষের পর তিনি বলেন, ‘দুরন্ত প্রতিভা। অবিশ্বাস্য ব্যাট করল। চমকপ্রদ সব শট খেলল। ভাবাই যায় না। আমি তো মুগ্ধ।’ রবি শাস্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকায় অভিষেক। আগাম বুঝতে পেরেছিল, শাহিন আফ্রিদি বাউন্সার দেবে। সেজন্য পিছনের পায়ে এসে মারতে অসুবিধা হয়নি। এই অনুমানক্ষমতাই বড় খেলোয়াড়ের লক্ষণ। ওর ব্যাট সুইংও দুর্দান্ত।’
আসলে গিল ও অভিষেক কার শিষ্য দেখতে হবে তো! তাঁদের নিজের হাতে গড়েছেন যুবরাজ সিং। গুরু নিজেও এমন মেজাজেই ব্যাটিং করতেন। ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছয় বলে ছয় ছক্কা এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তাজা। তারচেয়েও বড় ব্যাপার, যুবি প্রকৃত যোদ্ধা। ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধি তাঁকে হারাতে পারেনি। নিজের সেই নাছোড়বান্দা মেজাজটাই শিষ্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঁহাতি প্রাক্তন তারকা। তাই প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন সহজে মঞ্চ ছাড়ার পাত্র নন অভিষেক-গিল। রবিবার তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তাঁরা। 
অবশ্য মসৃণ জয়ের দিনেও কাঁটা হয়ে থাকল বুমরাহর ছন্নছাড়া বোলিং। এদিন চার ওভারে ৪৫ রান খরচ করেন তিনি। তাঁকে বিশ্বের তাবড় তাবড় ব্যাটার খেলতে ভয় পান। অথচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁরই এমন করুণ অবস্থা! এদিন স্বভাববিরুদ্ধভাবে ছন্নছাড়া বোলিং করলেন। আসলে বুমরাহকে জোর করে খেলাচ্ছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত, দলের সেরা বোলারকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলার লক্ষ্যে বিশ্রামে পাঠানো।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ