Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে লজে রাত কাটছে সুনীতাদের

সবে তখন সন্ধ্যা নেমেছে। কেউ কাজ থেকে ফিরে বাড়িতে টিফিন করছিলেন। কেউ আড্ডা জমিয়েছিলেন চায়ের ঠেকে।

এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে লজে রাত কাটছে সুনীতাদের
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সবে তখন সন্ধ্যা নেমেছে। কেউ কাজ থেকে ফিরে বাড়িতে টিফিন করছিলেন। কেউ আড্ডা জমিয়েছিলেন চায়ের ঠেকে।  হঠাৎ চারিদিক ভরে গেল কালো ধোঁয়া আর পোড়া  গন্ধে। চিৎকার ভেসে এল, আগুন…আগুন! প্রাণ বাঁচাতে তখন আট থেকে আশি—সবাই পড়িমড়ি করে বেরিয়ে এলেন ঘরের বাইরে। অনেকেই বেরিয়ে আসেন স্রেফ এক কাপড়ে। কেউ কেউ সঙ্গে নিয়ে আসতে পেরেছেন কেবল ভোটার, আধার ও প্যান কার্ড। চলে আসার সময় অনেকে বাড়ির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার জলে ফেলে দেন। আপাতত তাঁদের ঠাঁই হয়েছে অকুস্থলের অদূরে একটি নির্মীয়মাণ লজে। শনিবার রাতে কদম্বগাছির গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ ক্ষোভের সুরে বললেন, ‘এই গোডাউন আমাদের কাছে আতঙ্কের। এটা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।’ 

Advertisement

দত্তপুকুরের কদম্বগাছির বামুনমোড়াতে শনিবার রাতে যে আগুন লেগেছিল, রবিবার রাত পর্যন্ত তা পুরোপুরি নেভেনি। ঘটনাস্থলের পাশেই বসবাস ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের। সদস্য সংখ্যা কমবেশি ১০০। আগুন লাগলে মূলত তাঁরাই কার্যত এক কাপড়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হন। আপাতত তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন পাশের একটি নির্মীয়মাণ লজে। কিন্তু সেখানে কি আর মন টেকে! মাঝেমধ্যেই তাঁরা বেরিয়ে পড়ছেন, ভিটেমাটি অক্ষত রয়েছে কি না দেখতে। কবে আবার ফিরতে পারবেন নিজের ঘরে, আপাতত সেটাই তাঁদের প্রধান চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পর থেকে কেউই দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ আর আগুনের লেলিহান শিখা বারবার যেন ফিরে আসছে আতঙ্ক নিয়ে। 
ঘর ছাড়তে হয়েছে ওই এলাকার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের বাড়ির একাংশ ভাড়া দেওয়া আছে। নীচে রয়েছে দোকান। শনিবার সন্ধ্যায় দোকানেই ছিলেন গৃহকর্তা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তিনি লক্ষ্য করেন,  স্থানীয় ঢালিপাড়ার বহু বাসিন্দা টাকি রোডের দিকে দৌড়ে পালাচ্ছেন। মহিলাদের কোলে বাচ্চা। পুরুষদের কাঁধে গ্যাস সিলিন্ডার। দীপকবাবুরাও তড়িঘড়ি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। দীপকবাবুর স্ত্রী সুনীতাদেবী বলছিলেন, ‘আমাদের বাড়ির নীচের তলায় তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও দোতলা ও তিনতলায় ক্ষতি হয়েছে। এসি মেশিন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জনবসতি এলাকায় গোডাউন না থাকলেই ভালো হয়।’ সুচিত্রা প্রামাণিক, ঝুনু দাস, পূর্ণিমা প্রামাণিকরা আশ্রয় নিয়েছেন লজে। প্রত্যেকের একটাই প্রশ্ন, ‘এখন আগুন নিভলে নিজের ঘরে ফিরতে পারলে হয়। জানি না, কী কী ক্ষতি হয়েছে।’ লজের দায়িত্বে থাকা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যতদিন না পরিস্থিতি স্বভাবিক হচ্ছে, ওঁরা এখানেই থাকবেন। প্রতিবেশী হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ