মুম্বই: ওয়ার্কলোড ইস্যুতে সম্প্রতি বারবার সরব হয়েছেন সুনীল গাভাসকর। বিশেষ করে যশপ্রীত বুমরাহর বেছে বেছে ম্যাচ খেলার ব্যাপারটা একেবারেই মানতে পারছেন না তিনি। এশিয়া কাপের দল নির্বাচনের আগে তাই অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচকদের এই ব্যাপারে কড়া হওয়ার পরামর্শ দিলেন কিংবদন্তি ওপেনার।
ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের মধ্যে বুমরাহ খেলেছিলেন তিনটিতে। এই প্রসঙ্গেই ক্ষুব্ধ সানি কলামে লিখেছেন, ‘কেউই অপরিহার্য নয়। তাই বুমরাহ কখন খেলবে সেটা আগে থেকে ভেবে নিয়ে দল গড়ুক নির্বাচকরা। ইংল্যান্ডে সদ্যসমাপ্ত টেস্ট সিরিজে ওর খেলা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছে।’ তাঁর মতে, ‘বুমরাহ অবশ্য আগেই নির্বাচকমণ্ডলীকে জানিয়েছিল যে, পাঁচটার মধ্যে ও মাত্র তিনটি টেস্টে খেলতে পারবে। ওভালে জিততেই হবে পরিস্থিতিতেও মাঠে নামেনি। অথচ, সেই সিরিজে ওভালের পিচেই সবচেয়ে বেশি ঘাস ছিল। পাশাপাশি ভারতের পরের টেস্ট অক্টোবরের গোড়ায়। ফলে বিশ্রামের জন্য হাতে প্রায় দু’মাস সময়। তবু ওভালে ওর না খেলা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’
একজন ক্রিকেটারের কাছে ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নাকি দেশের স্বার্থ— কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও তুলেছেন গাভাসকর। প্রাক্তন অধিনায়কের যুক্তি, ‘ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছিল যে, বুমরাহর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওভালে প্রথম এগারোয় রাখা হয়নি ওকে। আর এখানেই থাকছে প্রশ্ন। একজন ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থ দেখা হয়নি। সেই সময় যদি বুমরাহ ফিট থাকত, তবে ভারতীয় ক্রিকেটের কথা বিবেচনা করে ওকে খেলতেই হতো। না-খেলার সিদ্ধান্তটা ওর নিজের, নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের, তা পরিষ্কার নয়। তবে ওভালে ভারতের জয়ে এটা স্পষ্ট যে কেউই অপরিহার্য নয়। কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না। খেলাটা ঠিকই এগিয়ে চলে।’
গাভাসকরের উল্টো মেরুতে অবস্থান চেতন শর্মার। প্রাক্তন ভারতীয় পেসার দূরদর্শনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘মেডিকেল টিম যা বলবে, সেটাই করতে হয় ক্রিকেটারকে। ফিজিও যদি কোনও ক্রিকেটারকে ওয়ার্কলোড কম করার পরামর্শ দেয়, তবে তা শোনা উচিত। কারণ, ফিজিও-ই হল এক্ষেত্রে সেরা বিচারক।’