নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কয়েকশো বছর আগে সুন্দরবনের নদীগুলিতে পর্তুগিজ জলদস্যুদের দাপট ছিল। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত বড় বড় মালবাহী জাহাজ। দস্যুরা বহুদিন ধরে দাপিয়েছে নদীপথ। দুর্যোগ ও নানা কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে এখনও জলের তলায় ডুবে প্রায় ১৫০টি নৌকা ও ছোট-বড় জাহাজ। এ তথ্য অবাক করার মতো হলেও বাস্তবে সত্যি। এই ইতিহাস অনেকেরই অজানা। এরকম আরও অনেক গোপন গল্প জানাতে তৈরি হতে চলেছে একটি সংগ্রহশালা। সেখানে থাকবে বারোটি গ্যালারি। কলকাতার এক বেসরকারি কলেজের কর্ণধার এই উদ্যোগ নিয়েছেন। গোসাবার রাঙাবেলিয়ার এক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মিউজিয়াম তৈরি হচ্ছে।
সুন্দরবনে এমনিতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট ও মাঝারি মিউজিয়াম। কেউ নিজের উদ্যোগে তৈরি করেছেন। কোথাও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ক্যাম্পাসে সুন্দরবনের নানা ধরনের সামগ্রী সাজিয়ে মিউজিয়াম চালু করেছে। কিন্তু এই নয়া মিউজিয়ামে যেসব তথ্য, ছবি ও নিদর্শন থাকবে তা একপ্রকার দুর্মূল্য বলেই দাবি কলেজের কর্ণধার প্রদীপ চোপড়ার। তিনি বলেন, ‘তথ্যসমৃদ্ধ ইতিহাসকে তুলে ধরা হবে মিউজিয়ামে। সুন্দরবনের মানচিত্রে নয়া পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নেবে এই প্রকল্প। অনেক গবেষণা করে মিউজিয়ামে রাখার সামগ্রী খুঁজে বের করা হয়েছে। যাঁরা দেখতে আসবেন তাঁরা অনেক অজানা ইতিহাস জেনে বাড়ি ফিরবেন। সুন্দরবনবাসীর কাছে এটি একটা চমক হবে।’
এই মিউজিয়ামে থাকবে ১২টি গ্যালারি। তার মধ্যে অন্যতম, সুন্দরবনের নৌকা ও জাহাজ এবং ব-দ্বীপের জলদস্যুদের কাহিনি। প্রদীপবাবুর কথায়, গবেষণা করে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনে ১১জন জলদস্যু দাপিয়ে বেরিয়েছিল। এদের বেশিরভাগই পর্তুগিজ। কয়েকজন শুধু স্থানীয়। এছাড়াও বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় বাদাবনকে আঘাত করেছে। সে বিষয়ে জানাতে তথ্যসমৃদ্ধ গ্যালারিও থাকবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র, জীব ও উদ্ভিদ, মানুষজন, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ও তুলে ধরা হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির জায়গাতে গড়ে উঠছে মিউজিয়াম। কর্তৃপক্ষ অক্টোবরে চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে। মিউজিয়ামে থাকা কিউ আর কোড স্ক্যান করে পর্যটকরা সবটাই শুনে নিতে পারবেন। আবার গাইডের ব্যবস্থাও থাকছে। তাঁরা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বিষয়ের উপর মানুষকে অবগত করবেন। নিজস্ব চিত্র