নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এসআইআরে রাজ্যের ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। আর এবার সেই ভোটারদের ‘নির্দিষ্ট পরিচয়’ জানতে চেয়ে কমিশনকে আইনি চিঠি দিলেন বাংলার এক নাগরিক। আরটিআই আইনের মাধ্যমে কমিশনের কাছে তথ্য চেয়েছেন হুগলির বলাগড়ের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ নাগ। শনিবারই তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিশ্বজিৎবাবু কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, শুনানিতে যাঁদের ডাকা হবে তাঁদের মধ্যে কতজন হিন্দু আর কতজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু? তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্ন, ওই তালিকায় কতজন নারী ও পুরুষ আছেন? তিনি আরও জানতে চেয়েছেন, ওই ভোটারদের মধ্যে সাধারণ, ওবিসি, এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ কতজন?
এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে আগেই রাজনৈতিক মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এবার নাগরিক মহলের এক প্রতিনিধির প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যেভাবে বিশ্বজিৎবাবু প্রশ্ন সাজিয়েছেন তাতে স্পষ্ট যে তিনি বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যের পর্দফাঁস করতে চান। এসআইআর নিয়ে সবচেয়ে বেশি লম্ফঝম্প করেছে বিজেপি। কখনও ঠারেঠোরে কখনও স্পষ্টভাবে পদ্মপার্টির নেতারা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের অনুপ্রবেশকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিদায় করা হবে। শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের ‘ধর্ম’ পরিচয় কমিশন যদি প্রকাশ করে তবে এই দাবি বুমেরাং হতে পারে। অন্যান্য প্রশ্নগুলিও সাধারণ কিন্তু তার ভিতর ফাঁদ আছে বলেও নানা মহল মনে করছে।
যদিও বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া-১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান বিশ্বজিৎবাবু নিজের উদ্দেশ্য-বিধেয় খুব একটা খোলসা করেননি। তিনি বলেন, আমি শুধু দেখতে চাইছি, এসআইআরের মাধ্যমে নাগরিকদের যে অংশ চূড়ান্ত হেনস্তার মুখে পড়বেন তাঁরা সমাজের কোন অংশের মানুষ। আমি এদেশের নাগরিক। সহনাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের আচরণে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করা হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে চাইলে অন্যায় কোথায়?
এই ব্যাপারে হুগলি বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, ‘উনি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছেন। এনিয়ে বিজেপির কিছু বলার নেই।’
তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলার চেয়ারম্যান বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, ‘এরাজ্যের নাগরিকরা আগে নাগরিক, তারপরে কোনও দলের কর্মী বা সমর্থক। নাগরিকরা বৈধ পথে রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাইতেই পারেন। এনিয়ে আমাদের আদেশ বা নিষেধ, কিছুই নেই।’
রাজনৈতিক দল তাদের মতো করে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু বাস্তবে এসআইআর এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে চর্চার অবসান হচ্ছে না। আরটিআই আইনে কমিশনকে দেওয়া বিশ্বজিৎবাবুর চিঠি, সেই চর্চাতেই বাড়তি মাত্রা জুড়ছে। এখন দেখার কমিশন কী করে। যদিও উত্তর আসা এবং না-আসা, দু’টিই এসআইআর নিয়ে নতুন ‘চর্চা’র জন্ম দেবে।