নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ফের জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আত্মঘাতী বন্দি। এবার সেলের মধ্যেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তর। মৃতের নাম সুরেশ রায় (২৪)। বাড়ি শিলিগুড়ি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন কলোনিতে। কিছুদিন আগেই পকসো মামলায় অভিযুক্ত এক বিচারাধীন আসামি জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল জেলে আত্মহত্যা করে। একমাসের মধ্যে দুই বন্দির আত্মহত্যার ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিস সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলের ১৪ নম্বর সেলে ছিল সুরেশ। ফাঁসির সাজা হওয়ায় তাকে সেলে একাই রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ পরনের পোশাক ছিঁড়ে সেলের গেটের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। এখানেই প্রশ্ন, একজন বন্দি পোশাক ছিঁড়ে সেলের গেটের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগাচ্ছে, অথচ জেলের কর্মীরা কেউ দেখলেন না? এনিয়ে জেল কর্মীদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে।
যদিও কারাদপ্তরের জলপাইগুড়ির ডিআইজি শুভেন্দুকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে আমি নিজেও জেলে গিয়েছিলাম। জেল কর্মীদের কর্তব্যে গাফিলতি থাকলে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জুডিশিয়াল তদন্তের পাশাপাশি আমরা বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছি। পরপর দুটি ঘটনা ঘটায় জেলের ভিতরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জেল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে সংশ্লিষ্ট সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে বেশ কয়েকজন জেল কর্মীকে।
২০২১ সালের ৪ মার্চ ভক্তিনগর থানার মধ্য শান্তিনগর ডাবগ্রাম নতুন ব্রিজ এলাকায় দাদাকে কুপিয়ে খুনের দায়ে গত ২৯ মার্চ জলপাইগুড়ি জেলা আদালত সুরেশকে ফাঁসির সাজার নির্দেশ দেয়। এদিন সকালে জেল থেকে তাঁদের খবর দেওয়া হয় বলে জানান মৃতের দাদা মাধব রায়। তিনি বলেন, যতটুকু শুনেছি, ফাঁসির সাজা হওয়ায় জেলে একা রাখা হতো ভাইকে। এতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল ও। সেই কারণেই সম্ভবত ভাই আত্মহত্যা করেছে। মৃতের আরএক দাদা যাদব রায়ের দাবি, শনিবার সকালে জেল থেকে ফোন করে বলা হয়, ভাই হাসপাতালে ভর্তি। আমাদের আসতে হবে। এসে শুনি, ভাই সেলের মধ্যে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের একটি ভিডিও দেখিয়েছে জেল পুলিস। তাতে দেখা যাচ্ছে, পরনের পোশাক ছিঁড়ে ভাই সেলের গেটে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, এতবড় ঘটনা ঘটে গেলেও জেলের কর্মীরা কেউ দেখতে পেলেন না?
ফাইল চিত্র।