নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিজের ব্যবসায় মন্দা চলছিল। আর্থিক দুশ্চিন্তায় অবসাদে ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। খাচ্ছিলেন ডিপ্রেশনের ওষুধও। তার উপর স্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত। কিছুদিন আগে অপারেশন হয়েছে। একমাত্র ছেলেকে দু’জনে প্রায়ই বলতেন, ‘তোর উপর বোঝা হয়ে যাচ্ছি!’ ছেলে-বউমার অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে শোওয়ার ঘরের বিছানা থেকে উদ্ধার হল সেই প্রবীণ দম্পতির মৃতদেহ! সল্টলেক এ ই ব্লকের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘর থেকে মিলেছে কীটনাশকের খালি বোতলও। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অবসাদ-আর্থিক সমস্যা সবকিছু থেকে ‘নিষ্কৃতি’ পেতেই সম্ভবত দু’জনে আত্মঘাতী হয়েছেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
মৃত দম্পতির নাম সজলকুমার কুণ্ডু (৬৪) এবং রঞ্জনা কুণ্ডু (৬১)। সল্টলেকের এ ই ব্লকে একটি দোতলা বাড়ির নীচতলায় থাকতেন। বাড়ির নাম, ‘মহাদেব নিবাস’। প্রতিবেশীদের দাবি, সজলবাবুর আদি বাড়ি উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটে। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা মহাদেব নিবাসে ভাড়াটিয়া হিসেবে আসেন। তারপর থেকে এই বাড়িতেই রয়েছেন। একমাত্র ছেলে সিদ্ধার্থ এবং তাঁর স্ত্রীও ওই বাড়িতে থাকতেন। দোতলায় ভাড়া থাকে অন্য একটি পরিবার। সজলবাবুর পুরনো ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা। ছেলে সিদ্ধার্থ গাড়ির ব্যবসায় যুক্ত। বাড়ির বাইরে ক্যাটারিংয়ের বোর্ডও ঝুলছে।
বউমাকে নিয়ে ছেলে গিয়েছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। এদিন সকাল থেকে বাবাকে ফোনে না পাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। সকাল ১০টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে দেখেন, বাবা-মার মৃতদেহ বিছানার উপর। বাবার দেহ বিছানা থেকে খানিকটা বেরিয়ে মেঝের দিকে ঝুলে রয়েছে! খবর পেয়ে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তারপর দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ছেলে সিদ্ধার্থ পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে বাবাকে অনেকবার ফোন করেছিলাম। ফোনে পাইনি। সুইচড অফ বলছিল। এক বন্ধুকে ফোন করে বলি, বাড়িতে গিয়ে দেখতে। সে গিয়ে বেল বাজালেও দরজা কেউ খোলেনি। তারপরই আমি চলে আসি। আমার কাছে বাড়িতে ঢোকার ডুপ্লিকেট চাবি ছিল।’ কিন্তু, এই পরিণতি কেন? জবাবে সিদ্ধার্থ বলেন, ‘টুকটাক অশান্তি হত। মাঝেমাঝে কথাকাটিও হয়েছে। বাবার ক্যাটারিং ব্যবসা অনেকদিন ধরেই ঠিকঠাক চলছিল না। আমি নিজের মতো করে খেতাম। মায়ের ক্যানসার অপারেশন হওয়ার পর বাইরে বের হতেন না। বাবা মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে বাইরে যেতেন। কিছুদিন আগে মায়ের শরীর খারাপ হয়েছিল। বাবা-মা ভাবতেন, ছেলের উপর বোঝা হয়ে যাচ্ছি। আমাকে সেকথা বলতেনও। আমি বলতাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, তাঁরা যে এটা করে ফেলবে বুঝতে পারিনি।’