নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চিনি নিয়ে চাপে মোদি সরকার। উৎসবের মরশুম এখনও শুরু হয়নি। তারই মধ্যে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। পাইকারি থেকে খুচরো—সব বাজারেই এক দশা। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় একদিকে যেমন চিনি মজুতের পরিমাণ বেধে দিল কেন্দ্র, অন্যদিকে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক দশক পর চিনি আমদানি করতে চলেছে ভারত। প্রশ্ন উঠছে, পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর টার্গেট পূরণ করতে গিয়েই কি এই হাল? আখ থেকে চিনি তৈরিতে জোর না দিয়ে ইথানলে ফোকাস করাতেই এমন পরিস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকার তা মানতে নারাজ।
খাদ্যমন্ত্রকের উপভোক্তা বিষয়ক বিভাগের সরকারি তথ্য বলছে, গত দু’মাসে খুচরো বাজারে গড়ে প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ৭৩ পয়সা চিনির দাম বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি কুইন্টালে ৭৯০ টাকা। দু’মাসে দামবৃদ্ধির হার ১৮ শতাংশ। দিল্লিতে বৃহস্পতিবার চিনির গড় দাম ছিল ৬১ টাকা কেজি। দু’মাস আগেও যা ছিল ৪৭ টাকা। পশ্চিমবঙ্গে ৪৭.৭১ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৭.৮৫ টাকা।
সামনেই শুরু হবে উৎসবের মরশুম। সেই সময় চিনির চাহিদা বাড়ে। তার আগেই এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যে সহজ নয়, তা বুঝে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই তড়িঘড়ি জারি হয়েছে গেজেট বিজ্ঞপ্তি। বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর, আগামী তিন মাস চিনির মজুতদারি চলবে না। কনফেকশনারি ব্যবসায়ী, সফট ড্রিঙ্কস প্রস্তুতকারক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, মিষ্টান্ন বিক্রেতাদের মতো যাদের মাসে ১০ মেট্রিক টন চিনির প্রয়োজন হয়, তারা ১৫ দিনের বেশি সময়ের জন্য চিনি মজুত রাখতে পারবে না। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন বা স্থানীয় সংস্থার অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য হবে না। চিনি কলগুলি কাকে কত চিনি বিক্রি করছে, তার উপর বাড়ানো হবে নজরদারি।
বিপাকে পড়ে ১০ বছর পর চিনি আমদানিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। ঠিক হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আমদানি করা হবে। আমদানি হবে নিঃশুল্ক। মোদি সরকারের প্রাথমিক টার্গেট, উৎসব মরশুমের মুখে দাম কমানো।