নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিতটা প্রথম দিনই গড়া হয়ে গিয়েছিল। সুদীপ চ্যাটার্জির ডাবল সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিনে রানের ইমরাত খাড়া করল বাংলা। কল্যাণীতে রনজি ট্রফির ম্যাচে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে বঙ্গ-ব্রিগেড তুলল ৫১৯। ১৮টি চার ও ১টি ছক্কা সহ ৩২৭ বলে ২০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়েছেন সুদীপ। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ১২৬ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে সার্ভিসেস। এখনও বাংলা এগিয়ে ৩৯৩ রানে। অর্থাত্, ইনিংসে জয়ের হাতছানি লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের সামনে।
চলতি রনজি ট্রফির প্রথম ম্যাচে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ৯৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সুদীপ। কিন্তু পরের ম্যাচে গুজরাতের বিরুদ্ধে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন বাংলার ওপেনার। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে কাটিয়ে প্রর্ত্যাবর্তন ম্যাচেই দ্বিশতরান হাঁকালেন তিনি। প্রথম দিনের শেষে ১৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। সঙ্গী সুমন্ত গুপ্ত (৩৬) এদিন শুরুতেই আউট হন। তবে শাকির হাবিব গান্ধী দারুণ সঙ্গত করলেন সুদীপকে। দুশো পূর্ণ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আউট হন বাংলার ওপেনার। তবে শাকির থামেননি। বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটার সেঞ্চুরিও পেতে পারতেন। কিন্তু উল্টোদিক থেকে যোগ্য সঙ্গত পেলেন না। ৯১ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন তিনি।
ব্যাটারদের পর কল্যাণীর সবুজ পিচে দাপট দেখালেন বাংলার পেসাররা। সার্ভিসেসের শুরুটা যদিও মন্দ হয়নি। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৪১। প্রতিপক্ষ শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানেন মহম্মদ সামিই। গৌরব কোচারকে (৯) ফেরান তিনি। এরপর সুরজ সিন্ধু অন্য ওপেনার শুভমকে ফেরাতেই চাপে পড়ে যায় সার্ভিসেস। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট খুইয়ে দিনের শেষে রীতিমতো ধুঁকছে অ্যাওয়ে দল। বাংলার হয়ে সুরজ ও আকাশদীপ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। মহম্মদ সামির শিকার ২টি উইকেট।
এদিকে, বোর্ডের চাপে রনজি ট্রফি খেলতে নেমেছেন শুভমান গিল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে শূন্য রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও হতাশ করলেন তিনি। মাত্র ১৪ রান এসেছে ভারতীয় অধিনায়কের ব্যাট থেকে। তাঁর দল পাঞ্জাবও মুখ থুবড়ে পড়েছে ম্যাচে। সৌরাষ্ট্রের কাছে ১৯৪ রানে হেরেছেন শুভমানরা। অন্যদিকে, রনজি ট্রফিতে ফের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মেলে ধরে নির্বাচকদের উপর চাপ বাড়ালেন সরফরাজ খান। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের জার্সিতে দ্বিশতরান হাঁকিয়েছেন তিনি। ২১৯ বলে তাঁর ২২৭ রানের অনবদ্য ইনিংস সাজানো ১৯টি চার ও ৯টি ছক্কায়। সেই সুবাদে প্রথম ইনিংসে মুম্বই তুলেছে ৫৬০। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে হায়দরাবাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩৮।