সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ২৬৩ বলে ৯৮! ক্রিকেটের ব্যাকরণ মেনে সুদীপ চ্যাটার্জি যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে শতরান বাঁধা ছিল। কিন্তু আচমকা তাঁর সাধ জন্মালো বীরেন্দ্র সেওয়াগ হওয়ার। ছক্কা হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছনোর বাসনাই কাল হল। উত্তরাখণ্ডের দেবেন্দ্রের লোভনীয় ওভারপিচের ফাঁদে পা দিয়ে ডিপ ব্যাক পয়েন্টে সুচিথের তালুবন্দি সুদীপ। সেই সঙ্গে ইডেনে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদও হাতছাড়া। উল্লেখ্য, নন্দনকাননে এর আগেও তিনবার নার্ভাস নাইনটির শিকার হয়েছেন সুদীপ। বৃহস্পতিবার সংখ্যাটা বেড়ে হল চার। হতাশায় বারবার হেলমেটে ব্যাট ঠুকছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। স্টেডিয়াম ছাড়ার সময়ও বলছিলেন, ‘ফ্লো’তে শটটা খেলে ফেলেছি। এখন মনে হচ্ছে, ঝুঁকি না নিলেই ভাল হতো।’
অবশ্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ২৬৪ বলে ১২টি বাউন্ডারি সহ সুদীপের ৯৮ রানের ইনিংস খুবই মূল্যবান। পঞ্চম উইকেটে সুমন্ত গুপ্তের সঙ্গে তাঁর ১৫৬ রানের জুটি প্রথম ইনিংসে লিড এনে দিল বাংলাকে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৬ উইকেটে ২৭৪। ক্রিজে আছেন সুমন্ত গুপ্ত (ব্যাটিং ৮২)। বঙ্গ-ব্রিগেডের ঝুলিতে লিড আপাতত ৬১ রানের।
উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ১ উইকেটে ৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন খেলা শুরু করা বাংলা দ্রুত কয়েকটি উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল। লাঞ্চের বিরতিতে দলের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬৩। ব্যর্থ সুদীপ ঘরামি (১৫)। শুরুটা ভালো করেও বড় রান পাননি অনুষ্টুপ মজুমদার (৩৫) ও অভিষেক পোড়েল (২১)। তবে সুদীপ-সুমম্ত জুটি দলকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেন। শেষবেলায় বিশাল ভাটি (১৫) বোল্ড না হলে আরও ভালো জায়গায় থাকত বাংলা।