সংবাদদাতা, মানবাজার: পাহাড় জঙ্গলঘেরা গ্রাম পুরুলিয়ার মানবাজারের ঝাড়বাগদা। কয়েকদিন ধরেই সেখানে দেখা মিলছে বিশেষ প্রজাতির মাকড়সার উপদ্রব। এনিয়ে প্রথমদিকে তেমন কোনও আতঙ্ক ছিল না গ্রামবাসীদের। কিন্তু সপ্তাহ কয়েক আগে সেই মাকড়সা কামড় বসায় গ্রামের এক মহিলার পায়ে। পরে হাসপাতলে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে ভুগছেন জঙ্গল লাগোয়া ঝাড়বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা। আতঙ্ক দূর করতে মঙ্গলবার সকালে গ্রামে যান মানবাজার ১ ব্লকের বিডিও দেবাশিস ধর। তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তাও দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়বাগদা গ্রামে বেশ কয়েকদিন ধরেই দেখা মিলছে বিশেষ এক ধরনের মাকড়সার। একটু বড় এবং গায়ে ভুসভুসে লোম যুক্ত এই মাকড়সাকে দিনের বেলা তেমনভাবে দেখা না গেলেও রাতে তার বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করছেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই মোবাইল ঘেঁটে অনুমান করছেন, এটি ট্যারান্টুলা প্রজাতির মাকড়সা। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ে সপ্তাহখানেক আগে। ঝাড়বাগদা গ্রামের বাড়ির ভিতর ওই মাকড়সা এক মহিলার পায়ে কামরায় বলে দাবি পরিবারের। এরপরেই জ্বালা করতে শুরু করে পায়ে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। তারপর থেকেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে গ্রামবাসীদের মনে। রাতে এখন ঘরে বাইরে আতঙ্ক গ্রামবাসীদের।
ঝাড়বাগদা গ্রামের শংকর মাহান্তি বলেন, এই বিশেষ প্রজাতির মাকড়সাকে সোমবার আমাদের বাড়ির উঠোনে দেখতে পাই। মাকড়সাটি একটু বড় আকৃতির, কালো রঙের এবং লোমশ। কিছুদিন আগেই মাকড়সাটি আমাদের পরিবারের এক কাকিমাকে কামড়ায়। তিনি এখনও সুস্থ হননি। বিডিও গ্রামে এসেছিলেন। তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন।
ওই গ্রামের অরূপ মহান্তি বলেন, প্রায়ই কারও না কারও বাড়িতে মাকড়সাটিকে দেখা যাচ্ছে। এতে সকলেই আতঙ্কে ভুগছেন। বিশেষ করে রাত্রিবেলায় সেটির দেখা মিলছে। প্রশাসন থেকে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মানবাজার রেঞ্জ অফিসার বিনয় মাহাতো জানান, এই সময় ট্যারান্টুলা প্রজাতির মাকড়সাগুলোকে বেশি দেখা যায়। কামড়ালে জ্বালা যন্ত্রণা করে, তেমন কোনও বিষাক্ত নয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই মাকড়সাই আতঙ্ক বাড়িয়েছে ঝাড়বাগদা গ্রামে। -নিজস্ব চিত্র