নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নামেই নদী। কোথাও মজে গিয়ে সরু জলধারা, কোথাও কার্যত নালার চেহারা। তারই মধ্যে শনিবার সকালে সরস্বতী নদীর জলে আচমকা দেখা গেল অস্বাভাবিক বুদবুদ। সঙ্গে তীব্র কটু গন্ধ। ডোমজুড়ের ভাণ্ডারদহ ব্রিজের নীচের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দিনের পর দিন দূষণ চলতে থাকায় নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ কার্যত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর একটি অংশ থেকে একের পর এক বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন জল ফুটছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই পরিস্থিতি থাকার পর ধীরে ধীরে বুদবুদের পরিমাণ কমে যায়। সরস্বতীর জল থেকে ছড়ানো গন্ধেও অস্বস্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান আশপাশের লোকজন। এলাকাবাসী দীপক বিশ্বাসের দাবি, নদীতে দীর্ঘদিন ধরেই দূষণ চলছে। তাঁর দাবি, সেই দূষণের জেরে নদীর পচা জলে গ্যাস তৈরি হয়ে বুদবুদ উঠতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা পূজা পালের অভিযোগ, আবর্জনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানার অ্যাসিডযুক্ত জলও নদীতে এসে মিশছে। তার ফলেই নদীর এই পরিস্থিতি।
সরস্বতী নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক বাপি ঠাকুরের কথায়, দীর্ঘদিন নদী সংস্কার করা হয়নি। নদীর পচা পাঁকের মধ্যে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেনের মতো গ্যাস তৈরি হতে পারে। সেই গ্যাসের কারণেই বুদবুদ বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর দাবি, সাঁকরাইল থেকে ত্রিবেণী পর্যন্ত নদীর প্রায় ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ ইতিমধ্যেই মজে গিয়েছে। নদী কোথাও নালায়, কোথাও আবার সরু নর্দমায় পরিণত হয়েছে। বাপিবাবুর অভিযোগ, দূষণের মাত্রা এতটাই যে, নদীতে আর মাছ দেখা যায় না। নদীর জল চাষের কাজেও ব্যবহার করা যায় না। এমনকি, নদীর জল খেয়ে শিয়ালের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
একসময় সরস্বতী নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন সপ্তগ্রাম বন্দর। নদীর দু’পাড়ে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যের নানা নিদর্শন। অথচ নগরায়ন, দূষণ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় সেই ঐতিহাসিক নদী ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে তার অস্তিত্ব। নদী থেকে নালা, আর নালা থেকে ইতিহাস— সরস্বতীর এই পরিণতি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। এক সময় যে নদীপথকে ঘিরে জনজীবন ও বাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছিল, আজ সেই জলধারাই দূষণের ভারে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। নিজস্ব চিত্র