ম্যাঞ্চেস্টারে: ওল্ড ট্রাফোর্ডে তখন দ্বিতীয় সেশনের খেলা চলছে। ভারতের দুই ওপেনারের জুটি বেশ জমে উঠেছে। তারই ফাঁকে ক্যামেরাম্যান ফোকাস করলেন ভারতীয় টিমের ড্রেসিং-রুমে। দেখা গেল, প্যাড-গ্লাভস পরে ব্যাটিংয়ে নামার জন্য প্রস্তুত সাই সুদর্শন। কিন্তু তাঁর হাতে ব্যাট নেই। উল্টে রয়েছে বই। তা দেখে অনেকেই অবাক। আসলে ব্যাটিংয়ে নামার আগে বই পড়াই রুটিন সুদর্শনের। মাঝেমধ্যে নোটও লিখে রাখেন। তাতে নাকি ফোকাস বাড়ে। অবশ্য সেটা কাজেও এল। চতুর্থ টেস্টে করুণ নায়ারের জায়গায় খেলার সুযোগ রীতিমতো লুফে নিলেন এই বাঁ-হাতি। লড়াকু অর্ধশতরানে তিন নম্বর জায়গা রীতিমতো পাকাও করে ফেললেন। তবে শেষবেলায় তাঁর আউট চাপে ফেলল দলকে। ১৫১ বলে সাতটি বাউন্ডারি সহ ৬১ রানের ইনিংসে অবশ্য থাকল দায়িত্ববোধের পরিচয়।
অবশ্য সিরিজের প্রথম টেস্ট হেডিংলেতে সুদর্শন ব্যর্থ হন সুযোগের সদ্ব্যবহারে। প্রথম ইনিংসে খাতাই খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৩০। এরপর বাদ পড়েন তিনি। পরপর তিন টেস্টে ব্যর্থতার পর করুণ নায়ারকে ম্যাঞ্চেস্টারে ছেঁটে ফেলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও এই সিদ্ধান্তটা অনেকেই ভালোভাবে নেননি। করুণকে বাদ দেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন শুভমান গিলের সমালোচনা করেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তবে তাঁদের ভুল প্রমাণিত করে দলের আস্থার মর্যাদা রাখলেন সাই সুদর্শন। লোকেশ রাহুল আউট হওয়ার পর তিনি ক্রিজে আসেন। প্রথম বল থেকেই জমাট দেখাচ্ছিল তাঁকে। ১৩৪ বলে টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরানে পৌঁছন তিনি। লিয়াম ডসনের ডেলিভারিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে তা আসে।
এদিকে, আবারও নতুন করে চোট পেলেন ঋষভ পন্থ। এদিন ৩৭ রানের মাথায় ইংল্যান্ডের মিডিয়াম পেসার ক্রিস ওকসকে রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে ডান পায়ে লাগে তাঁর। চোট রীতিমতো গুরুতর। ফুলে ওঠার পাশাপাশি পা দিয়ে রক্তও ঝরতে দেখা যায়। মাঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না তিনি। এই অবস্থায় তাঁকে গাড়ীতে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই টেস্টে তিনি ফের ব্যাট করতে নামতে পারবেন কিনা তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে নতুন চোট হওয়ার ফলে পরিবর্ত হিসেবে ধ্রুব জুরেলের কিপিং করতে কোনও অসুবিধা নেই।
চতুর্থ টেস্টের স্কোরবোর্ড
ভারত (প্রথম ইনিংস): যশস্বী ক ব্রুক বো ডসন ৫৮, লোকেশ ক ক্রলি বো ওকস ৪৬, সুদর্শন ক কার্স বো স্টোকস ৬১, গিল এলবিডব্লু বো স্টোকস ১২, পন্থ রিটায়ার্ড হার্ট ৩৭, জাদেজা ব্যাটিং ১৯, শার্দূল ব্যাটিং ১৯, অতিরিক্ত ১২, মোট (৮৩ ওভারে) ৪ উইকেটে ২৬৪। উইকেট পতন: ১-৯৪, ২-১২০, ৩-১৪০, ৩-২১২ (পন্থ রিটায়ার্ড হার্ট), ৪-২৩৫। বোলিং: ওকস ১৭-৪-৪৩-১, আর্চার ১৬-২-৪৪-০, কার্স ১৬-১-৬০-০, স্টোকস ১৪-২-৪৭-২, ডসন ১৫-১-৪৫-১, রুট ৫-০-১৯-০।