নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রহড়ার বেআইনি অস্ত্র ব্যবসার কিংপিনকে জেরা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর হদিশ পেল বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার ভোরে কংস প্রামাণিক নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার বেতবেড়িয়া এলাকার দড়ি ক্যাওড়াডাঙ্গা। তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম ও একটি দেশি ওয়ান শর্টার পিস্তল সহ মোট আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এদিন ধৃতকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতকে জেরা করে বাকি অস্ত্রের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ রহড়া রিজেন্ট পার্কের প্রতিভা মঞ্জিল আবাসন থেকে মধুসূদন মুখোপাধ্যায় ওরফে লিটনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তার বাড়ি থেকে ১৪ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সেনা ও পুলিসের ব্যবহার করা পয়েন্ট ৩৮ বোরের গুলি সহ প্রায় হাজার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। ধৃতকে জেরা করতেই নিত্য নতুন তথ্য পেতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতের সঙ্গে বিহারের গ্যাংস্টারের যোগাযোগ, বাড়িতে শার্প শ্যুটারদের আশ্রয় দেওয়া, ডন সুবোধ সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মতো নানান চমকে দেওয়া তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছেন। তাকে জেরা করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার অস্ত্র ব্যবসায়ী কংসের খবর পান গোয়েন্দারা। এই কংস নিয়মিত তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র নিত। সে আবার ওই অস্ত্র এলাকার দুষ্কৃতীদের বিক্রি করত।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, বেআইনি অস্ত্রের পাইকারি ব্যবসার দিকেই বেশি ঝোঁক ছিল মধুসূদনের। ছোটখাটো দুষ্কৃতীদের সরাসরি বিক্রির তুলনায় বিভিন্ন এলাকার বড় কারবারিদের অস্ত্র সরবরাহ বেশি করত। সে নিজে মুঙ্গের গিয়ে কার্তুজ নিয়ে আসত। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহে পরিচিত মুঙ্গের পার্টির থেকে লিটন অস্ত্র নিত না। কেউ বেশি কার্তুজ নিলে, কম লাভে অর্থাৎ প্রতি পিসে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাভে তা বিক্রি করত। সেক্ষেত্রে ক্রেতাকে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০ পিস কার্তুজ নিতে হতো। তবে প্রত্যেক মাসে তার অস্ত্র বিক্রির পরিসংখ্যান গোয়েন্দাদের চোখ কপালে তুলেছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা জেনেছেন, প্রত্যেক মাসে লিটন গড়ে চার-পাঁচ জন ব্যবসায়ীকে কমপক্ষে ২০ পিস অস্ত্র বিক্রি করেছে। ফলে এই কয়েক বছরে শুধুমাত্র তার হাত দিয়ে এই রাজ্য ছাড়াও ওড়িশাতেও কয়েক হাজার অস্ত্র বিক্রি হয়েছে।