


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোটো চাষিদের থেকে ধান কেনার জন্য রাজ্য খাদ্যদপ্তরের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগ এবার প্রথম থেকেই কার্যকর হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের গোটা খরিফ মরশুমে মোট ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছিলেন। সেখানে এবার নভেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারির ২৩ তারিখ পর্যন্ত সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন ১৮ লক্ষ ২৪ হাজার চাষি। কেনা হয়েছে ৩২ লক্ষ টনের কিছু বেশি ধান। ২০২৪-২৫ খরিফ মরশুমে সরকার চাষিদের কাছ থেকে মোট ৫৬ লক্ষ টন ধান কিনেছিল। নভেম্বর থেকে পরের বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খরিফ মরশুমের সময় ধরা হয়। স্বাভাবিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে ধান কেনার পরিমাণ ও বিক্রেতা চাষির সংখ্যা আরও বাড়বে।
এবার বেশি সংখ্যক চাষির থেকে ধান কিনতে পারার প্রধান কারণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন। গত খরিফ মরশুমে এক জন চাষি সরকারের কাছে একদফায় ৩০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারতেন। গোটা মরশুমে একাধিক দফায় অবশ্য ৯০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করা যেত। এবার এক দফায় সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান কেনা যাবে বলে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গোটা মরশুমে অবশ্য কয়েক ধাপে ৯০ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি এবারও করা যাবে।
ছোটো ও প্রান্তিক চাষি, ভাগচাষিরা যাতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে বেশি আয় করতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার যে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যে ধান কেনে, তাতে খোলাবাজারের থেকে বেশি দাম পাওয়া যায়। মাথাপিছু প্রতি দফায় ধান কেনার পরিমাণ কমানো নিয়ে কিছু মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল। খাদ্যদপ্তরের উপর প্রভাবশালী মহলের চাপ থাকলেও সরকার পিছু হটেনি বলেই খবর। সেই কারণে অনেক বেশি সংখ্যক ছোটো চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন। ছোটো চাষিরা কার্যত বাধ্য হতেন ফড়েদের ধান বিক্রি করতে। এবার তা অনেকটাই আটকানো যাচ্ছে বলে মনে করছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। কারণ, ১৫ কুইন্টাল ধান একবার করে এসে বিক্রি করায় ফড়েদের পড়তায় পোষাচ্ছে না। চাষির পরিচয় যাচাই করে, তাঁর কত পরিমাণ জমি আছে, তা খতিয়ে দেখে ধান কেনা হচ্ছে। তবে যত কম জমি চাষির কাছে থাকুক না কেন, অন্তত ১৫ কুইন্টাল ধান সরকার তার কাছ থেকে কিনবে। ধান কেনার জন্য স্থায়ী কেন্দ্র ছাড়াও ভ্রম্যমান স্থায়ী ও অস্থায়ী শিবির চালানো হচ্ছে জোরকদমে।