মুম্বইয়ে ‘মালিক’-এর ট্রেলার লঞ্চের পর এক্সক্লুসিভ আড্ডায় রাজকুমার রাও এবং মানুষী চিল্লার।
মুম্বইয়ে ‘মালিক’-এর ট্রেলার লঞ্চের পর এক্সক্লুসিভ আড্ডায় রাজকুমার রাও এবং মানুষী চিল্লার।
রাজকুমার বলে সম্বোধন করব, নাকি মালিক?
রাজকুমার: মালিক বললেও আপত্তি নেই (হাসি)।
এই মুহূর্তে কী ভাবছেন?
রাজকুমার: আমি খুব রোমাঞ্চিত। বিভিন্ন জায়গা থেকে যে ধরনের সাড়া পাচ্ছি, সেটা অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা একটা সুন্দর ছবি তৈরি করেছি। এরপর দর্শকও যখন সেভাবে রিঅ্যাক্ট করেন, তখন তো ভালো লাগবেই। আমি কৃতজ্ঞ।
মালিকের দুনিয়ায় কী কী রয়েছে?
রাজকুমার: সব কিছু। মারামারি, নাটকীয়তা, আবেগ, প্রেম, রোমাঞ্চ, বাবা-ছেলের সম্পর্ক।
এর আগে অনেক ‘গ্যাংস্টার’ ছবি দেখেছেন দর্শক, ‘মালিক’ কোথায় আলাদা?
রাজকুমার: গল্পটা আলাদা। দর্শক রিলেট করতে পারবেন। আমাদের ছবির একটা সংলাপ, ‘মালিক হয়ে জন্মাইনি তো কী হয়েছে? মালিক তো তৈরি হতে পারি!’ এই সংলাপটা বিশ্বজনীন। শুধুমাত্র একজন গ্যাংস্টার বলবে, এমন নয়। আমি মনে করি, ৯৯ শতাংশ মানুষ কঠিন বাস্তব থেকে লড়াই করেন। সকলের ভিতরেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বপ্ন সফল করতে কঠিন পরিশ্রম করেন। ‘মালিক’ সেই দিক থেকে অনুপ্রেরণাও দেবে।
‘মজা আয়েগা’, আপনার সংলাপ...। এই ছবি আনন্দ দিল?
রাজকুমার: খুব আনন্দ হয়েছে। এত ভালো সংলাপ! আমাদের পরিচালক পুলকিত এমন সব সংলাপ লিখেছেন, তা একেবারে মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের কথা।
এই ছবিতে রাজকুমারের কাছে কী শিখলেন মানুষী?
মানুষী: আমি ওঁর সঙ্গে প্রথমবার কাজ করলাম। এতদিন দর্শক হিসেবে দেখেছি। রাজ এমন একজন সহঅভিনেতা, যার সঙ্গে প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা যায়।
কখনও রাজকুমার বকেছেন আপনাকে?
রাজকুমার: আরে না না... (মাথা নিচু করে হেসে)
মানুষী: অনেকবার (হা হা হা)...। আসল কথা, রাজ খুব শান্ত, বিনয়ী। কখনও ওকে চিৎকার করতে দেখিনি। আমি ওকে অবজার্ভ করতাম।
মানুষী কি সত্যিই ভালো অবজার্ভ করতে পারেন?
রাজকুমার: অবশ্যই। সেজন্যই তো ও মিস ওয়ার্ল্ড (হাসি)।
মিস ওয়ার্ল্ড-এর জগৎটা সিনেমা জগতের থেকে আলাদা। মানিয়ে নিলেন কীভাবে?
মানুষী: দুটো জগতের চাহিদা সম্পূর্ণ আলাদা। আমার বাবা, মা তো মজা করে বলেন, কয়েকবছর অন্তর অন্তর আমি নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ভাবে কাজ শুরু করি। এ ব্যাপারে আমি মাস্টার (হাসি)। মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার আগে ডাক্তারির জন্য পড়েছি। অভিনয় শুরু করার পর যেকোনও জিনিসের প্রতি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।
সফল হওয়ার পর পরিচালকদের আপনাকে অফার করার ধরন বদলেছে?
রাজকুমার: কেরিয়ারের শুরুতে আমি সকলকে অ্যাপ্রোচ করতাম। তারপর বক্স অফিসে আমার ছবি ভালো ব্যবসা করায় তাঁরা এখন আমাকে ভালো গল্প শোনান। এখন বেছে নেওয়ার জন্য কিছু অপশন পাই। আর শুরুর দিকে যা অফার পাচ্ছি, সেই চিত্রনাট্যেই আমার সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে, এভাবে ভাবতাম। আসলে ইন্ডাস্ট্রির মানুষ আমাকে চেনেন। সাফল্য আমাকে এতটুকুও বদলায়নি।
‘মালিক’-এর জন্য কোনও রেফারেন্স ছিল?
রাজকুমার: না। নিজেকে কীভাবে তৈরি করব, সেটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। এর আগে বিভিন্ন গ্যাংস্টার-এর চরিত্রে অন্য অভিনেতাদের পারফরম্যান্স থেকে যেন আলাদা কিছু করা যায়, সেই চেষ্টাই করেছিলাম।
চরিত্রের কতটা অংশ বাড়িতে নিয়ে যান?
রাজকুমার: খুব আবেগপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করলে, কিছুক্ষণ সেটা মাথায় থাকে। কিন্তু সেট থেকে বেরিয়ে গেলে আমি শুধুই রাজ। অবশ্য অবচেতন মনে চরিত্রটা থেকে যায়। অন্তত যতদিন শ্যুটিং শেষ না হচ্ছে, ততদিন তো থাকেই। এই জার্নিটা খুব ব্যক্তিগত।
যেভাবে কেরিয়ার এগচ্ছে, আপনি খুশি?
রাজকুমার: অবশ্যই। কোনও অভিযোগ নেই।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের প্রস্তুতি শুরু করেছেন?
রাজকুমার: শ্যুটিং পরের বছর। কাজ শুরু হয়েছে। আর কয়েকমাস পর প্রস্তুতি শুরু করব।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য • মুম্বই