Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে সাফল্য, হাইকোর্টের নির্দেশে বাবার মৃত্যুর ১৭ বছর পর সরকারি চাকরি ছেলের

হাইকোর্টের নির্দেশে ১৭ বছরের আইনি লড়াই শেষে আকাশরঞ্জন রায় সরকারি চাকরি পাচ্ছেন। পরিবারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ জয়। বিস্তারিত পড়ুন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে সাফল্য, হাইকোর্টের  নির্দেশে বাবার মৃত্যুর ১৭ বছর পর সরকারি চাকরি ছেলের
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: টানা ১৭ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে হাসি ফুটল পরিবারের মুখে। সরকারি চাকরির মুখ দেখতে চলেছেন পিতৃহারা আকাশ। পুরো নাম আকাশরঞ্জন রায়। বাড়ি চন্দননগরে। বাবা বিকাশরঞ্জন রায় ছিলেন কনস্টেবল। হুগলির গুড়াপে ২০০৯ সালে কর্মরত অবস্থায় মারা যান তিনি। সেই সময় মৃতের পোষ্য হিসাবে চাকরি পাওয়ার অধিকার ছিল পরিবারের কারও। স্ত্রীর তখন বয়স ৫২ বছর। আকাশ সেই সময় নাবালক। স্বাভাবিকভাবেই স্বামীর মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে আবেদন করে স্ত্রী জানিয়েছিলেন, চাকরির প্রয়োজন। পরে ছেলে সাবালক হলে মা আকাশের নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু কাল হল আইনি জট। একবার রাজ্য সরকার, একবার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (স্যাট)-এ দৌড়ঝাঁপ করেও লাভ হয়নি। শেষমেশ হাইকোর্টের রায়েই জট খুলল। ডিভিশন বেঞ্চ আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আকাশরঞ্জনকে নিয়োগের চিঠি দিতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারকে।

Advertisement

চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে পরিবারের কাউকে চাকরি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন ক্ষেত্রে মৃতের আত্মীয় সেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য, তা নিয়ে হাইকোর্টে রয়েছে অসংখ্য মামলা। নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীর মত্যুর ৬ মাসের মধ্যে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরি আশায় আবেদন করেছিলেন আকাশের মা। ২০১৩ সালে আকাশ সাবালক হলে মা দাবি করেন, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর ছেলেকে চাকরি দেওয়া হোক। পরবর্তীকালে তিন সদস্যের স্ক্রিনিং কমিটি আকাশকেই চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু ২০২২ সালে সেই সুপারিশ নাকচ করে দেয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্যাটে মামলা করেন আকাশ। স্যাট রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আকাশ। 
হাইকোর্টের দুই বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ ও বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আকাশের আইনজীবী সুশান্ত পাল বলেন, কমপ্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্লজ ১০ (এএ) অনুযায়ী এই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন ছিল। এক্ষেত্রে তা হয়নি। ওই ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে বিকাশবাবুর মৃত্যুর পর ওই পরিবারের কেউ চাকরিযোগ্য ছিলেন না। তাই মামলাকারী সাবালক হওয়ার পর চাকরি পাওয়ার যোগ্য হন। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে সরকারপক্ষ। বেঞ্চ উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে নির্দেশে জানায়, আট সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে চাকরির চিঠি দিতে হবে সরকারকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ