কৌশিক ঘোষ ও প্রীতেশ বসু: প্রশাসনিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তার জন্য গঠন হতে চলেছে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন (এআরসি)। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কাজকর্মে এরকম বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ কয়েক দশকের ভিতরে এই প্রথম। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই, গত মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সমস্ত দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সচিব ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করার বিষয়টি যে সরকার বিবেচনা করছে, ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতেই তার উল্লেখ রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলির কাজকর্ম সংক্রান্ত নিয়মকানুন (রুলস) আরো যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োগদক্ষতার দিক থেকে এগিয়ে রাখার জন্যই যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, উল্লেখ রয়েছে তারও।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার আগামীদিনে কীভাবে চলবে, সেই ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রভৃতি বরদাস্ত করা হবে না। বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের কেসে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েই উন্নয়নের কাজ করতে চাইছে নয়া রাজ্য সরকার। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য অর্থের জোগান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সরকারি কাজে শুরু হয়েছে অনলাইন ব্যবস্থা। এটা আগামী দিনে আরো সম্প্রসারিত হবে। তার ইঙ্গিত দিচ্ছেন সরকারের নতুন মন্ত্রীরা। এসবের জন্য প্রশাসনিক কাজকর্মের ধরন ঢেলে সাজার প্রয়োজন আছে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে। প্রশাসনিক সংস্কার হলে কর্মী-আধিকারিকদের সার্ভিস রুলে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। রাজ্যে সার্ভিস রুলের বড়ো ধরনের পরিবর্তন বহু বছর হয়নি। রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়। কিন্তু তাতে সবসময় ঠিকঠাক কাজ হয় না। তাই প্রশাসনিক কাজকর্ম ঢেলে সাজা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নে মুখ্যসচিবের ডাকা বৈঠকে আরো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব দপ্তরকে অবিলম্বে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্প অন্য নামে চললে সেটাও সচিবদের জানাতে হবে। দপ্তরগুলিকে আরো ভালোভাবে চালানোর জন্য কী কী ব্যবস্থাগ্রহণ প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দপ্তরের অর্থ খরচ করার ক্ষমতার বিষয়টি আছে।
সব দপ্তরকে বলা হয়েছে, তাদের কর্মী সংক্রান্ত প্রয়োজনের বিষয়টি কর্মিবর্গ সংস্কার দপ্তরকে জানাতে হবে। বিগত বছরগুলিতে দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, জানাতে বলা হয়েছে সেটাও। এর পাশপাশি, দপ্তরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘সংকল্প পত্রে’ উল্লেখিত বিষয়গুলি কার্যকর করার উপর দপ্তরগুলিকে অবিলম্বে বিশেষ নজর দিতে হবে। সাতদিনের মধ্যেই এই ব্যাপারে পরিকল্পনা (রোড ম্যাপ) করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলকে।