Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাত্রাবস্থায় বৈরাগ্য জেগেছিল মনে সুভাষ এসেছিলেন বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে

দেশনায়ক হওয়ার আগে একবার মনে বৈরাগ্য জেগেছিল সুভাষচন্দ্র বসুর। তখন তিনি ছাত্র। চৈতন্যদেবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলে আসেন নবদ্বীপে।

ছাত্রাবস্থায় বৈরাগ্য জেগেছিল মনে সুভাষ এসেছিলেন বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: দেশনায়ক হওয়ার আগে একবার মনে বৈরাগ্য জেগেছিল সুভাষচন্দ্র বসুর। তখন তিনি ছাত্র। চৈতন্যদেবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলে আসেন নবদ্বীপে। নানা মঠ-মন্দিরে ঘুরে সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্য লাভ করলেন। তবে, শেষ পর্যন্ত তাঁর আর বৈরাগী হয়ে ওঠা হয়নি। বরং হয়ে উঠলেন ভারত মায়ের মহান বিপ্লবী সন্তান। তারপরেও অবশ্য তিনি চৈতন্যধাম নবদ্বীপকে ভুলে যাননি। প্রবল কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও সুভাষচন্দ্র নবদ্বীপে দু’বার এসেছিলেন।

Advertisement

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড সংস্কৃতের পীঠস্থান রূপে পরিচিত ছিল নবদ্বীপ। শহরের  ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো নবদ্বীপ সাধারণ গ্রন্থাগারে(তৎকালীন এডওয়ার্ড লাইব্রেরি) এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর পদধূলিধন্য এই গ্রন্থাগার। ২৩ জানুয়ারি এবং স্বাধীনতা দিবসে আজও এই গ্রন্থাগার নেতাজিকে ঘিরে মেতে ওঠে। গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটির কর্মকর্তা ও পাঠকরা ১৫ আগস্ট নেতাজির উপস্থিতিকে স্মরণ করেন। তাঁর ছবি ঘিরে রীতিমতো ধুমধাম করে  স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়।
জানা গিয়েছে, ১৯৩৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নবদ্বী঩পে এসেছিলেন। তৎকালীন সময়ে নবদ্বীপ পুর নির্বাচন উপলক্ষ্যে এখানে তিনি সভাও করেন। সাধারণ গ্রন্থাগারের পুরনো হলঘরে তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় এই লাইব্রেরিতে ছিলেন। সেইসময় দক্ষিণপন্থী মনোভাবাপন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত সদানন্দ ভট্টাচার্য, বাদল মুখোপাধ্যায়, বাসুদেব মুখোপাধ্যায়রা তাঁকে এখানে এনেছিলেন। পাশাপাশি, নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলায় সভা করেছিলেন সুভাষচন্দ্র। বর্তমানে সেই জায়গায় তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। নেতাজি নবদ্বীপের বড়ালঘাটে রাধারমণ সেবাশ্রমেও এসেছিলেন। পরবর্তীতে যোগনাথতলার শিল্পকুঠিতে যান। মহেশগঞ্জ থেকে পালচৌধুরীদের ছোট হেলিকপ্টারে করে এসে তিনি এসব জায়গায় সভা করেছিলেন। তখন সাধারণ গ্রন্থাগারের সামনে বর্তমান ভবনটি ছিল না। এরই পিছনের হলঘরে সভা করেছিলেন নেতাজি। তৎকালীন সময়ে যাঁরা লাইব্রেরির দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে ভিন্ন মতাদর্শী হওয়ায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নেতাজি লাইব্রেরিতে সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য পুঁথি দেখতে পাননি। তবে, গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, তিনি পুঁথি দেখে গিয়েছিলেন। তৎকালীন ভিজিটারস বুকে তাঁকে সই করানো যায়নি। কারণ, লাইব্রেরির দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বিপক্ষের হয়ে তিনি সভা করতে এসেছিলেন। শোনা যায়, সেদিন নেতাজি যাঁদের হয়ে সভা করতে এসেছিলেন, পরবর্তীকালে তাঁরাই নাকি জয়ী হয়েছিলেন।
নবদ্বীপ সাধারণ গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটির বর্তমান সম্পাদক নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৎকালীন সময়ে পুরপ্রতিনিধি নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে নেতাজি সভা করতে এসেছিলেন। নেতাজি ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বহু মনীষী এই লাইব্রেরিতে এসেছিলেন। নেতাজি এখানে আসায় তৎকালীন সময়ের লোকজন ভীষণভাবে আপ্লুত হয়েছিলেন। তাঁর মতো দেশবরেণ্য নেতা আজও আমাদের হৃদয়ে রয়েছেন। আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করি। এই গ্রন্থাগারে মিটিং করতে এসে যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন, আজও সেটি এখানে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর ২৩ জানুয়ারি ও স্বাধীনতা দিবসে আমরা তাঁর এই সমস্ত স্মৃতি রোমন্থন করি।
নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব বলেন, সম্ভবত নেতাজি নবদ্বীপে তিনবার এসেছিলেন। প্রথমবার এসেছিলেন ছাত্রাবস্থায়। সেইসময় মনে বৈরাগ্য দেখা দেওয়ায় চৈতন্যধাম নবদ্বীপে এসেছিলেন। পরের দু’বার মূলত রাজনৈতিক কারণে এসেছিলেন।  নবদ্বীপের সাধারণ গ্রন্থাগারে এসে এই চেয়ারে বসতেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ