Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

১৮ দিন পর মহাকাশ স্টেশন থেকে রওনা দিলেন শুভাংশু, আজ দুপুরে পৌঁছবেন পৃথিবীতে, অধীর অপেক্ষায় পরিবার

ভারতের ঘড়িতে তখন সময় সোমবার বিকেল ৪টে ৪৫। সকলের নজর নাসার স্ক্রিনে। ‘আনডকিং’ প্রক্রিয়া শেষ। থ্রাস্টারের সাহায্যে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস) থেকে বিচ্ছিন্ন হল মহাকাশযান।

১৮ দিন পর মহাকাশ স্টেশন থেকে রওনা দিলেন শুভাংশু, আজ দুপুরে পৌঁছবেন পৃথিবীতে, অধীর অপেক্ষায় পরিবার
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভারতের ঘড়িতে তখন সময় সোমবার বিকেল ৪টে ৪৫। সকলের নজর নাসার স্ক্রিনে। ‘আনডকিং’ প্রক্রিয়া শেষ। থ্রাস্টারের সাহায্যে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস) থেকে বিচ্ছিন্ন হল মহাকাশযান। ভিতরে অ্য্যক্সিয়ম-৪ অভিযানের চার সদস্য- শুভাংশু শুক্লা, পেগি হুইটসন, স্লাওস উজনানস্কি ও টিবর কাপু। ১৮ দিনের মহাকাশ অভিযান শেষে পৃথিবীর উদ্দেশে প্রায় ২৩ ঘণ্টার যাত্রা শুরু করল ‘গ্রেস’। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ ভারতীয় দুপুর ৩টে নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ করবে স্পেসএক্সের ক্যাপসুল। প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইএসএসে গিয়ে  ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শুভাংশু। এবার ঘরে ফেরার পালা। ছেলেকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেনের পরিবার। 

Advertisement

২৫ জুন ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশে পাড়ি দেন শুভাংশুরা। ২৬ জুন সফল ‘ডকিং’ প্রক্রিয়া শেষে স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করেন চার নভশ্চর। দু’সপ্তাহের বেশি সময় পর রবিবার থেকেই শুরু হয়ে যায় ফিরতি যাত্রার যাবতীয় প্রস্তুতি। সোমবার নির্ধারিত সময়ে স্পেসএক্সের ড্রাগনে সওয়ার হন শুভাংশুরা। গ্রিন সিগন্যাল মিলতেই শুরু হয় ‘আনডকিং’ প্রক্রিয়া। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্পেস স্টেশন থেকে দূরত্ব বাড়াতে থাকে ‘গ্রেস’। এগতে থাকে পৃথিবীর দিকে। পুরোটাই স্বংয়ক্রিয়। ফ্লাইট কম্পিউটারের সাহায্যে নিজে থেকেই ফিরে আসবে ড্রাগন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ঘর্ষণ ও তাপমাত্রার সম্মুখীন হবে শুভাংশুদের ক্যাপসুল। জানা গিয়েছে, সেই সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এর হাত 
থেকে বাঁচতে বিশেষ ধরনের ঢাল ব্যবহার করবে এই মহাকাশযান। ধাপে ধাপে গতি কমাবে ড্রাগন। তারপর দু’ধাপে খুলবে প্যারাশ্যুট। প্রথমটি খুলবে ৫.৭কিমি উচ্চতায়। পরেরটি আনুমানিক ২ কিমি উচ্চতায়। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে নির্ধারিত সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে ড্রাগন। সঙ্গে সঙ্গে শুভাংশুদের কাছে পৌঁছে যাবে স্পেসএক্সের টিম। ক্যাপসুলটিকে বিশেষ জাহাজে তুলে নেওয়া হবে। তারপর সাতদিনের রিহ্যাব। 
লখনউয়ে নভশ্চরকে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে রয়েছে পরিবার। শুভাংশুর বাবা শম্ভু দয়াল শুক্লার বক্তব্য, ‘মহাকাশ থেকে আমাদের অসাধারণ দৃশ্য দেখিয়েছে শুভাংশু। পৃথিবী, পাহাড়, চাঁদ।’ মা আশা দেবীর কথায়, ‘আজ শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করেছি।’ অবতরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেন চিন্তা কাটতে চাইছে না। বোন সূচি শুক্লা বলেন, ‘স্প্ল্যাশডাউন পর্যন্ত উৎকণ্ঠা থাকবেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ