নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভাগচাষির ছেলে। সংসারের অভাব দূর করতে বাবার সঙ্গে চাষের কাজে হাত লাগাতে হয় তাকেও। প্রখর রোদ হোক বা বৃষ্টি, মাঠে কোদাল চালিয়ে অন্ন সংস্থান সুনিশ্চিত করার পরই নিশ্চিন্তে বই খুলতে পারে শুভঙ্কর বিশ্বাস। এহেন কঠিন বাস্তবের মাটিতে হেঁটেও জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় ৯১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে! মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর পায়রাডাঙায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে প্রীতনগর ভূদেব স্মৃতি বিদ্যাপীঠের এই ছাত্র। ভবিষ্যতে বড় পুলিস আধিকারিক হতে চায় সে।
এক মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার সুজিত বিশ্বাসের। দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে শুভঙ্কর বড়। তিনি নিজে পেশায় ভাগচাষি। অন্যের জমিতে চাষ করে যা অল্পবিস্তর রোজগার হয়, তাই দিয়েই টানতে হয় চারটি পেট। এর সঙ্গে দু’জনের পড়াশোনার খরচ চালানো মোটেও সহজ নয়। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে ছেলেকে মাঠে নিয়ে যেতে হয় চাষের কাজে হাত লাগাতে। অবশ্য জোর করে নয়, বাবার কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে শুভঙ্কর নিজেও স্বেচ্ছায় হাত লাগায় চাষের কাজে। তার চোখে স্বপ্ন রয়েছে, একদিন লেখাপড়া শিখে সংসারের অভাব দূর করবে। তাই মাঠে কাজ করে যতটুকু সময় মেলে, তার পুরোটাই লেখাপড়ার জন্য ব্যয় করে শুভঙ্কর। সদ্য প্রকাশিত মাধ্যমিকে তার সংগ্রহ ৬৩৬ নম্বর। রয়েছে সাতটি বিষয়ে লেটার। বাংলায় ৮৭, ইংরেজিতে ৮৪, অংকে ৯৯, ভৌত বিজ্ঞান এবং জীবন বিজ্ঞানে ৯১ এবং ৯৩, ইতিহাসের ৮৭ এবং ভূগোলে ৯৫ নম্বর পেয়েছে সে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে অঙ্ককরতে। লেখাপড়ার সময় বাদে অঙ্কের জটিল সমস্যার সমাধান তার অন্যতম ‘হবি’।
ভবিষ্যতে কী হওয়ার ইচ্ছা? প্রশ্নের উত্তরে শুভঙ্কর জানায়, আপাতত বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। ভবিষ্যতে অবশ্য সে বড় পুলিস আধিকারিক হতে চায়। বদলে দিতে চায় পুলিস নিয়ে মানুষের খারাপ ধারণা।
শুভঙ্করের মা সোমা বিশ্বাস বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা খুব সহযোগিতা করেছেন। নাহলে এই সাফল্য ও পেত না। অনেকেই বিনা বেতনে পড়িয়েছেন। শিক্ষকদের কেউ কেউ আবার বই কিনে দিয়েছেন। আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের প্রার্থনা, যেন ওর জীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়। -নিজস্ব চিত্র