Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়ি বাসস্ট্যা঩ন্ড লাগোয়া রাস্তার ধারে পুকুর ভরাটের অভিযোগ

সিউড়ি বাসস্ট্যা঩ন্ড লাগোয়া রাস্তার ধারে পুকুর ভরাটের অভিযোগ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সদর শহরের প্রাণকেন্দ্র বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তার ধারে রবীন্দ্রপল্লির বিশালাকার পুকুরটি ধীরে ধীরে বুজতে শুরু করেছে। পুকুরের পাড়ে মাটি, ইট, আবর্জনা ফেলা চলছে মাসের পর মাস ধরে। সারাবছরই পুকুরটি কচুরিপানা, গাছগাছালিতে ভর্তি থাকে। আর এই সুযোগে পাড় বাড়িয়ে চলছে বোজানোর কাজ। যেভাবে এগচ্ছে তাতে আর ক’দিন পর পুকুরটি মাঠ হয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। শহরের আরও বেশ কয়েকটি পুকুর এভাবেই ধীরে ধীরে বুদ্ধি করে বোজানো চলছে বলে অভিযোগ উঠছে।
Advertisement
রবীন্দ্রপল্লি ঢোকার মুখেই রাস্তার ধারে এই পুকুরটি। বাস স্ট্যান্ড থেকে মেরেকেটে তিনশো মিটার দূরে। পুকুরটি ঘিরে তিন ধারেই রয়েছে বিশালাকার সব বিল্ডিং। একদিকে শহরের নামী একটি হোটেল। তার উল্টো দিকে মার্কেট। আর সামনের দিকটি মেন রোড। এলাকার লোকজন বলছেন, রাস্তার পর থেকেই পুকুরটি শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এখন সামনের অংশটি মাটি পড়ে বুজে গেছে। সেখানে বাস, চারচাকা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। মাত্র কয়েকবছর আগেও পুকুরটি জলে ভরা থাকত। কিন্তু এখন তা প্রায় মজে গিয়েছে। পুকুর পাড়ে গাছ গজিয়ে উঠেছে। এছাড়াও কচুরিপানা তো সারাবছর ভর্তি থাকেই। ইদানিংকালে পুকুরপাড়েই আবর্জনা ফেলা শুরু হয়েছে। প্লাস্টিক থেকে থালা, বাটি সহ বিভিন্ন নোংরা ফেলা হচ্ছে পুকুরের পাড়ে। এভাবেই ধীরে ধীরে পুকুরটি বুজতে শুরু করছে। কেউ কেউ বলছেন, ধীরে হলেও আর মাত্র এক দু’বছরের মধ্যে পুকুরটি বুজে যাবে। খুবই বুদ্ধি করে মানুষজনকে নোংরা ফেলতে দেওয়া হচ্ছে। যাতে পাড় বড় হয়ে যায়। স্থানীয় পথচলতি এক বাসিন্দা সন্দীপ সাহা বলেন, এটা শহরের প্রাণকেন্দ্র, তাতে যদি কেউ নজর না দেয় তো বাকি দিকে কী হচ্ছে বুঝতেই পারছেন। আস্তে আস্তে পুরো দখল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেখছি পুকুরের পশ্চিম দিকটা বেশি বুজে গেল। সেইখানে মার্কেট বড় হচ্ছে। কয়েকবছর পর এই এলাকায় বিশালাকার বিল্ডিং গজিয়ে উঠলে অবাক হব না। আমরা চাই শহরের এই পুকুরগুলো বাঁচুক। এমনিতেই জলকষ্ট। তাতে পুকুরগুলো বাঁচানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুরো বেদখল হয়ে গিয়েছে। শুনেছি পুকুরের মালিকরা বাইরে থাকেন। দেখার কেউ নেই। আমরা অনেক দিন আগেই বলেছিলাম পুকুরটা একবার হলেও পাড়গুলো মাপযোক করে সংস্কার করা হোক। যদি পুকুরটা ঘিরে পুরসভা একটা রেলিং করে দিত তো খুবই ভালো হতো। এই পুকুরের জল পুজো, মেলা সবেতেই কাজে লাগত। কিন্তু মনে হয় বুদ্ধি করে পুকুরটি বোজানোর চেষ্টা চলছে। কাজ প্রায় হাসিল হয়ে গিয়েছে এদের। আমরা চাই প্রশাসন এদিকটায় একটু নজর দিক। অন্যদিকে, শহরের আরও বেশ কিছু পুকুর বোজানো নিয়ে শহরবাসী সরব হচ্ছেন। লালকুঠি পাড়া থেকে মাদ্রাসা রোড সবজায়গায় একই প্যাটার্নে পুকুরের ধারে আবর্জনা, নির্মাণ সামগ্রী ফেলা হচ্ছে। যাতে ধীরে ধীরে পুকুরগুলি বুজে যায়। এই নিয়ে প্রশাসনকে দুষছেন সাধারণ মানুষজন। পুর চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রপল্লির ওই পুকুরটি ঠিক কত পরিমাপের সেই তথ্যা আমার কাছে নেই। ব্যক্তি মালিকাধীন পুকুর। কেউ যদি অভিযোগ জমা করেন তো সরজমিনে নিজে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পুকুর বোজানোর বিরুদ্ধে আমরা।
সম্পর্কিত সংবাদ