নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহম্মদবাজারের ম্যানেজার পাড়ায় এক মহিলা সহ তিনজন খুনের ঘটনায় সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি। সেই অভিযোগকে সামনে রেখে রবিবার বীরভূম জেলা বিজেপির তরফে মহম্মদবাজার থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া হল। বিজেপির সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন বিজেপি নেতারা মিছিল করে থানার সদর গেটে পৌঁছন। সেখানে তাঁদের পুলিসি বাধার মুখে পড়তে হয়। এরপরই বিজেপির তরফে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়। সে সময়ে পুলিসের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ধস্তাধস্তি বেধে যায়। পরে বিজেপির নেতারা থানা চত্বরে বসেই বিক্ষোভে শামিল হন। অন্যদিকে, খুনের ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টিম না পৌঁছনোয় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও জেলা পুলিসের তরফে জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ সোমবার ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ম্যানেজার পাড়ায় খুনের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিস নয়ন ও সুনীলকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে নয়ন খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত। অন্যদিকে, নয়নকে আশ্রায় দেওয়ার অভিযোগ সুনীলের বিরুদ্ধে। দুজনেই পুলিসি হেফাজতে রয়েছে। ধৃতদের জেরা করে পুলিস তদন্তের জাল গোটাতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত হাতিয়ার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আগামীতে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাও হতে পারে। এদিকে শনিবার আদালতের বাইরে ধৃত নয়নের বক্তব্যে উঠে এসেছে টাকা-পয়সা নিয়ে অশান্তির কথা। পরকীয়ার তত্ত্ব উড়িয়ে ধৃতের দাবি, জোর করে তার টাকা নিয়ে নিত মেয়েটি। পুলিস কর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ঘটনার রাতেই ধৃত নয়নের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়েই হয়তো মৃতার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। যদিও তদন্তকারীরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। এদিন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একজনের পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে মনে হচ্ছে। এটা তদন্ত সাপেক্ষ। কিন্তু, বীরভূম জেলা পুলিসের প্রতি আমাদের ভরসা নেই। আমরা জানতে চাই, পুলিস কুকুর আসার আগেই কেন মৃতদেহ বের করা হল। অন্যদিকে জেলা পুলিসের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, পুলিস পুলিসের কাজ করছে। পুলিসের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে।



