নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তপনকুমার জানা। বেশকিছু পড়ুয়াকে জোর করে ব্যক্তিগত কাজ করতে বাধ্য করতেন তিনি। যদি কোনও পড়ুয়া তাঁর নির্দেশ মানতে রাজি না হতেন, তখন তাঁকে ‘সাপ্লি’ পাইয়ে দিতেন। এভাবেই কঠোর হাতে অ্যানাটমি বিভাগে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন তিনি। সিবিআইয়ের হাতে রবিবার তাঁর গ্রেপ্তারির ঘটনার পর সোমবারও মেডিক্যাল কলেজজুড়ে তাঁর নানা কীর্তিকলাপ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিভাগীয় প্রধান হলেও তিনি মোটেও স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি ছিলেন না। বিশেষ বিশেষ পড়ুয়ার উপর ছড়ি ঘোরাতেন তিনি। তাঁদেরকে দিয়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজকর্মও করাতেন। এই কাজের জন্য যেসব পড়ুয়াকে তিনি নির্বাচন করতেন, তাঁরা যদি কেউ প্রথমে অমত করত, তাহলে তার কপালে জুটত শাস্তি। নির্দিষ্ট পেপারে ফেল করিয়ে দিতেন তিনি।
দাপটের সঙ্গে অ্যানাটমি বিভাগে কাজ করলেও ভিতরে ভিতরে যে তিনি অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তা প্রকাশ্যে আসতেই বর্তমান পড়ুয়া থেকে প্রাক্তনীরা রীতিমতো অবাক। বেশকিছু প্রাক্তন পড়ুয়া তথা বর্তমানে চিকিৎসক তপনবাবুর ঔদ্ধত্যের ব্যাপারে এখন মুখ খুলছেন। এক চিকিৎসক বলেন, ২০১৯ সালে আমরা যখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তখন উনি আমাদেরই এক ব্যাচমেটকে ডেকে পাঠান। তারও বাড়ি ছিল বর্ধমানে। নিজের কিছু কাজের কথা বললে আমার ওই বন্ধু রাজি হয়নি। পরবর্তীতে দেখা যায়, ও একটি পেপারে সাপ্লি পেয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ এভাবেই মেটাতেন।
বহরমপুরের চিকিৎসক তথা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী আকাশদীপ ঘোষ বলেন, তপনবাবু বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অ্যানাটমি বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই অনেক কিছু বদলে যায়। উনি একেবারেই স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি ছিলেন না। আগে ডিপার্টমেন্টে যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা হতো, সেটা ওঁর জন্যই রাতারাতি উধাও হয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, অ্যানাটমিতে এমডির পাশাপশি গাইনোকোলজিতে ডিপ্লোমা (ডিজিও) ছিলেন তপননবাবু। তাঁকে অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসক এবং পড়ুয়ারা অত্যন্ত সমীহ করতেন। সেই সুযোগে তিনি ডোন্ট কেয়ার মনোভাবে বিভিন্ন কাজ করে গিয়েছেন। এমনকী দিনের পর দিন বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্যান্য লাভজনক পদে কাজ করেছেন। মাসে মাত্র ১০-১২ দিন করে তিনি এই অ্যানাটমি বিভাগে থাকতেন। বাকি সময় নিজের অন্যান্য কাজ করতেন। মেডিকেল কলেজে না থাকলেও তিনি কাউকে কিছু জানাতেন না। এমনকী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন সময় রাজ্যের বাইরে যেতেন।
মেডিক্যালের এক চিকিৎসক বলেন, ওর আগে যিনি প্রধান ছিলেন তাঁকে সকলে যেমন সমীহ করতেন তেমন ভালোবাসতেন। তপনবাবু দায়িত্ব নিয়েই পড়ুয়াদের ভয় দেখাতে শুরু করেন। হঠাৎ করে ফেলের সংখ্যা বেড়ে যায়। শোনা যায়, একটি ছাত্রীকে তিনি ভয় দেখিয়ে ফেল করিয়ে দিয়েছিলেন।