নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানে অনুষ্ঠান হয়েছিল বহু বিদ্যালয়ে। পড়ুয়ারা শ্রদ্ধা জানিয়েছিল। তার ৭২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উলটো ছবি দেখা গেল গোবরডাঙা গার্লস হাইস্কুলে। স্কুলের এক শিক্ষিকার নামে কুৎসিত অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রীর দিদির বিরুদ্ধে। শিক্ষিকাকে ইট ছুড়ে মারার হুমকি দিলেন ওই মহিলা। তাঁকে থামাতে গিয়ে প্রহৃত হলেন দুই শিক্ষিকা।
মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা চন্দনা বসু ঘোষ দস্তিদার তখন নিজের ঘরে ছিলেন। স্কুলে ছিলেন অন্যান্য শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা। বিভিন্ন প্রয়োজনে এসেছিলেন কয়েকজন অভিভাবকও। তাঁদের সকলের উপস্থিতিতে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর দিদি স্কুলে আসেন। তিনি ওই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্রী। অভিযোগ, স্কুলে ঢুকে এক শিক্ষিকার নামে চিৎকার করে কুৎসিত অপবাদ দিতে থাকেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন মৌসুমী বসু এবং মৌমিতা সাহা নামে দুই শিক্ষিকা। তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দু’জনকে মারধর করা হয়। এরপর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইট তুলে শিক্ষিকাদের ছুড়ে মারার হুমকি দেন ওই প্রাক্তনী। চিৎকার করে ‘দেখে নেব’ হুমকি দিতে থাকেন। ঘটনাটির ভিডিয়ো মোবাইলে তুলে রাখেন। ততক্ষণে স্কুলের ভিতর প্রবল হইচই শুরু হয়ে যায়। অন্যান্য শিক্ষিকারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। উপস্থিত থাকা অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা এবং অন্যান্য শিক্ষিকারা গোবরডাঙা থানায় যান। অভিযোগ জানান। প্রধান শিক্ষিকা চন্দনাদেবী বলেন, ‘দু’মাস পর অবসর নেব। ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন ঘটনার মুখোমুখি কোনোদিন হতে হয়নি। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আমার এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। তার জন্যই ওর দিদি ও মা স্কুলে এসে শিক্ষিকাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। প্রাক্তন ছাত্রী হুমকিও দিয়েছে।’ স্কুলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অনেকের বক্তব্য, গোবরডাঙার স্কুলটির এই ঘটনায় নতুন করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।