সংবাদদাতা, ঘাটাল: ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই জেলায় জেলায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করে বেরাচ্ছেন। আগামিকাল চন্দ্রকোণা বিধানসভা এলাকায় তাঁর সভা। তার আগে গোটা চন্দ্রকোণায় যেন একেবারে উৎসবের মেজাজ। এখানে স্থানীয় প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইয়ের সমর্থনে মঙ্গলবার এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ক্ষীরপাই পুরসভার সীমানা সংলগ্ন চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের জাড়া পঞ্চায়েতের বওড়া গ্রামে হবে এই হাইভোল্টেজ জন সভা। ক্ষীরপাই-আরামবাগ রাস্তার ধারে বিশাল এলাকাজুড়ে সভার মূল মঞ্চ ও বসার জায়গা করা হচ্ছে। বর্তমানে দলনেত্রীর সেই সভার প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই দলীয় কর্মীরা প্যান্ডেল ও তোরণ তৈরির কাজে ব্যস্ত। দফায় দফায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সভাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সভায় ভিড় সামাল দিতে ও নেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সিসিটিভি থেকে শুরু করে মেটাল ডিটেক্টর সবকিছুরই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং শাসকদলের শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হতে চলেছে। তৃণমূলের চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হীরালাল ঘোষ জানান, নেত্রীকে একবার চাক্ষুষ করার জন্য আমজনতার মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের সাধারণ পরিবারের মহিলারা এই সভার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাঁদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবিই বদলে গিয়েছে। মায়েরা এখন স্বামীর মুখাপেক্ষী না হয়েই সন্তানদের টিউশনির খরচ বা সংসারের ছোটখাটো আবদার মেটাতে পারছেন।
কেবল মহিলারাই নন, এই সভাকে ঘিরে উন্মাদনা চরমে পৌঁছেছে এলাকার শিক্ষিত যুবক ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও। সদ্য স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করা জাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সুভাষ ঘোষ, অনির্বাণ রায়রা জানাচ্ছেন, যুবশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া মাসিক আর্থিক সহায়তা তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় শক্তি জোগায়। চাকরির পরীক্ষার আবেদনের খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে এই ভাতার টাকাতেই। এরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এলাকার যুবকরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য দলীয় নেতাদের কাছে দরবার করেছেন।
তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই জানান, বিভিন্ন বুথ ও পুরসভা এলাকা থেকে যুবশ্রী পাওয়া ছাত্ররা নেত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁদের তরফ থেকে অন্তত একবার শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ পাওয়া যায়।