সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় জর্জরিত বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লি সিনিয়র বয়েজ হস্টেলের ছাত্ররা। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শুক্রবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবন পূর্বিতার সামনে তাঁরা ধর্নায় বসেন। আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হস্টেলে পানীয় জলের তীব্র অভাব রয়েছে। গরম পড়তেই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। হস্টেলের ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এর আগেও গত ১৫মার্চ জলের দাবিতে সেন্ট্রাল অফিসের সামনে পথ অবরোধ করেও কোনও ফল মেলেনি। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এদিন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা বাধ্য হন। ছাত্ররা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দ্রুত খতিয়ে দেখে সমস্যার সমাধান করা হবে।
বিশ্বভারতীতে যে কয়েকটি বড় ছাত্রাবাস রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম পূর্বপল্লি সিনিয়র বয়েজ হস্টেল। হটেলে এথেকে এইচ পর্যন্ত ব্লকে প্রায় ১৫০টি রুম রয়েছে। আবাসিক পড়ুয়ার সংখ্যা কমবেশি ৩০০জন। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাভবন ও বিদ্যাভবনের পড়ুয়ারা এই হস্টেলে থাকেন। পড়ুয়ারা যাতে পরিস্রুত পানীয় জল পান সেজন্য কর্তৃপক্ষের তরফে কয়েক বছর আগে একটি কুলার ফিল্টার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু, তা বিকল হওয়ার পর থেকেই পানীয় জলের সমস্যা বাড়তে থাকে। গরমকাল আসতেই যা তীব্র আকার ধারণ করে। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কাজ হয়নি বলে পড়ুয়াদের অভিযোগ। তার প্রেক্ষিতে গত ১৫ মার্চ সেন্ট্রাল অফিসের সামনে আবাসিক পড়ুয়ারা দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধও করেন। আশ্বাস দিয়েও তা পূরণ না হওয়ায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গভীর রাতে তাঁরা জড়ো হয়ে ধর্নায় বসেন। জলের বোতল হাতে নিয়ে হস্টেলের আবাসিক ছাত্ররা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে পুনরায় আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা সাময়িক আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। যদিও জলের সমস্যা না মিটলে আগামী দিনে বড়সড় আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পড়ুয়ারা।