নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাই—এই দাবি তুলে স্কুলের গেটের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্রছাত্রীরা। মঙ্গলবার সকালে বেলডাঙার দেবপুর হাইস্কুলের সামনে এই ছবি সামনে আসতেই তোলপাড় করে। স্কুল খুলতেই গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। তার পর চার ঘণ্টা ধরে চলে পড়ুয়াদের আন্দোলন। টানা রোদে বসে থেকে আন্দোলনে শামিল হওয়া পড়ুয়াদের অনেকেই অসুস্থও হয়ে পড়ে। তাতেও তারা দাবি থেকে সরে আসেনি। সকলেরই একটাই বক্তব্য, চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে ফেরাতেই হবে। আমাদের পড়াশোনার অভূতপূর্ব ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। কলকাতার বিকাশভবন থেকে শুরু করে শহরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছেই। তাঁদের উপর পুলিসি হেনস্তারও অভিযোগ উঠছে। সেই প্রেক্ষিতে দেবপুর হাইস্কুলের পড়ুয়াদের এমন বিক্ষোভ নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন রীতিমতো পরিকল্পনা করে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে প্লাকার্ড নিয়ে স্কুলে আসে। তারপর স্কুলের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখায়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে, শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। তাঁরাও দুপুর একটা পর্যন্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন।
দেবপুর হাইস্কুলের টিচার ইন চার্জ বরুণ কুমার দে জানান, ২০১৬ এসএসসি প্যানেলে চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকদের ফেরাতে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ-আন্দোলনে শামিল হয়। স্কুলের গেটে তালা দিয়ে দেয় ওরা। আমরা বারবার অনুরোধ করলেও ওরা গেট খোলেনি। তাই তাদের সঙ্গে আমরাও স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। এসআই, ডিআই, আইসি ও বিডিও সকলকেই জানানো হয়েছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ছাত্রছাত্রীদের দাবি নায্য। সত্যিই তো ওদের ভবিষ্যৎ রয়েছে। স্কুলে যোগ্য শিক্ষকরা না থাকার দরুন পড়াশোনার প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি, বাতিল হওয়া যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি অবিলম্বে ফেরাতে হবে। স্থায়ীভাবে শিক্ষকদের ফিরিয়ে দিয়ে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। তারা প্রশ্ন তোলে, কেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলকাতায় আন্দোলন করতে গিয়ে মার খাচ্ছেন। কেন তাদেরকে স্কুলে স্থায়ীভাবে ফেরানো হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, বেলডাঙা দেবপুর হাইস্কুলে মোট ৩২ জন শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে চাকরি বাতিল হয়েছে ৬ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকার। পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষকের অভাবে স্কুলে পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে না। এখনও বহু শূন্যপদ রয়েছে। সেগুলিতে নিয়োগও হচ্ছে না। এদিকে যোগ্য শিক্ষকদেরও স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এদিন বিক্ষোভের প্রথম সারিতে ছিল দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকের অভাবে মাধ্যমিকের পড়াশোনার প্রস্তুতি ঠিকমতো নেওয়া যাচ্ছে না। নিয়মমাফিক ক্লাসও হচ্ছে না। ছাত্র ছাত্রীরা বলেন, এতদিন গরমের ছুটি চলছিল। তাই আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারিনি। যে ছয়জন শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে, তারা ভালই পড়াতেন। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা আমাদের। কীভাবে পরীক্ষা দেব। কোনও প্রস্তুতি নেই। তাই ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়, স্থায়ীভাবেই যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্কুলে ফেরাতে হবে। কেন আমাদের শিক্ষকেরা কলকাতায় গিয়ে মার খাবে। কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে? বিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষক বলেন, পড়ুয়াদের আমরা বুঝিয়ে ক্লাসে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের দাবিতে অনড়। এদিন তারা বিদ্যালয়ের শুরুর সময় কয়েক ঘণ্টা গেট আটকে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আমরাও ওদের বিক্ষোভের জেরে বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারিনি।