নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) নিয়ে চাপানউতোর চলছেই। মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েত (এবিজিপি)। আবার ক্যাম্পাসেই পড়ুয়ারা বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। সেখানে পড়ুয়া থেকে শিল্পী, বাম ছাত্র নেতারা বক্তব্য রাখেন। এদিনও ক্লাস বয়কট রাখেন পড়ুয়ারা।
আরএসএসের সংগঠন এবিজিপির তরফে এদিন পঙ্কজ রায়, জয়ন্ত ভাওয়ালরা সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তাঁদের বক্তব্য, আমরা নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে ওই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করেছিলাম। সেখানে পড়ুয়ারা আচমকাই প্রবেশ করে ভারতমাতার ছবিতে পোস্টার লাগানো শুরু করে। ছবি ছিঁড়ে ফেলে থুতু ফেলে। তাঁদের সভ্যদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পড়ুয়াদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, চাকু নিয়ে তাঁদের উপর হামলা করা হয়েছিল। সেই অভিযোগ নস্যাত্ করেছে এবিজিপি। তাঁদের সাফ বক্তব্য, বাইরে জাতীয়তাবাদী মনোভাবপন্ন মানুষ এসেছিলেন। ভারতমাতাকে অপমান করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁরা এসেছিলেন।
পড়ুয়াদের মারধরের প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, প্রায় শ’দেড়েক লোকজন হলের বাইরে চলে এসেছিল। কেউ লুঙ্গি, হাফপ্যান্ট পরে। আমাদের লোকেদেরও তো প্রতিরোধ করতে হবে! এমনকি, সেইসময় উপস্থিত সকলে পড়ুয়া কি না সেই বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবিজিপি। ঘটনার দিন পুলিশ অনেক দেরিতে এসেছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি আইনি পথেও হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে এদিনই এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের সংহতিতে ক্যাম্পাসের ভিতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শিল্পীর-পড়ুয়ারা। চৈতি ঘোষাল, উষসী বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যরা উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে। এদিন এসআরএফটিআইয়ের ছাত্র সংসদের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, উপাচার্য বলছেন, ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। ক্লাস বয়কটের সিদ্ধান্ত এখনো প্রত্যাহার হয়নি। এদিন সন্ধ্যায় যাদবপুরের পালবাজার থেকে অজয়নগর পর্যন্ত এসএফআই মশাল মিছিল করে।