Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভা জলের ট্যাঙ্কে মিটল মিড-ডে মিলের সমস্যা, ঝাড়গ্রামের স্কুলে মুড়ি, চানাচুরের বদলে ডিম-ভাত পেল পড়ুয়ারা

পুরসভা জলের ট্যাঙ্কে মিটল মিড-ডে মিলের সমস্যা, ঝাড়গ্রামের স্কুলে মুড়ি, চানাচুরের বদলে ডিম-ভাত পেল পড়ুয়ারা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অবশেষে মিড ডে মিলে ভাত, ডাল, ডিম, তরকারি জুটল পড়ুয়াদের। পানীয় জলের পাম্প দীর্ঘ ৯ মাস খারাপ হয়ে পড়েছিল। মিড ডে মিলের রান্নার জন্য ৩০০ মিটার দূর থেকে জল আনতে হতো। স্বসহায়ক দলের মহিলারা বাইরে থেকে জল আনা বন্ধ করতেই মিড ডে মিল রান্না বন্ধ হয়ে যায়। গত বুধবার শহরের নিউ টাউনশিপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দুপুরে মুড়ি-চানাচুর খেতে হয়। পুরসভা তড়িঘড়ি জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থার করায় ফের শুরু হয়েছে মিড ডে মিলের রান্না।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন পাম্প তৈরির জন্য আমাদের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু জলের সমস্যার কথা তাঁরা জানাননি। বিষয়টি জানার পরেই মিড ডে মিলের জন্য স্কুলে জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। ট্যাঙ্কের জল ফুরিয়ে গেলে পুরসভাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে বলা হয়েছে। পাম্পটিকে সারাই করার জন্য আমাদের কর্মীরা পাম্প এবং প্যানেল বোর্ড তুলে নিয়ে এসেছে। পাম্পটি সারানোর পর জল না উঠলে নতুন পাম্প বসানো হবে। পুরসভা দ্রুত পদক্ষেপ করায় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। স্কুলের জলের পাম্পের মেশিন ঘরে মাঝেমধ্যেই শর্ট সার্কিট হওয়ায় শিক্ষিকারা উদ্বেগে রয়েছেন। স্কুল চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরা যাতে মেশিন ঘরের দিকে না যায়, তারজন্য সর্বক্ষণ নজরদারি করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ৫২ জন ছাত্রছাত্রী ও প্রধান শিক্ষিকা সহ চারজন শিক্ষিকা রয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কমলা বেরা বলেন, দীর্ঘ ন’ মাস ধরে স্কুলের জলের পাম্পটি খারাপ হয়ে পড়েছিল। পুরসভা ও জেলার শিক্ষাদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। স্বসহায়ক দলের তিনজন মহিলা জলের ব্যবস্থা না হলে কাজ করতে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। বাধ্য হয়ে গত বুধবার পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে মুড়ি ও চানাচুর দিতে হয়। 
পুরসভা পরের দিন জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে দেয়। শৌচালয়ের জলের সমস্যা এখনও মেটেনি। এছাড়াও পাম্পের মেশিন ঘরে মাঝে মধ্যে শর্ট সার্কিট হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই আগুন ধরে যায়। ছেলেমেয়েরা যাতে পাম্প ঘরের দিকে না চলে যায় সেদিকে নজর দিতে হচ্ছে। শিক্ষাদপ্তরকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে। স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার অভিভাবক বলেন, দুপুরে ছেলেমেয়েদের পাতে আবার ভাত, ডাল, তরকারি, ডিম পড়ছে। স্বস্তি বোধ করছি। 
তবে শৌচালয়ে জলের সমস্যা রয়েছে। শৌচালয় পরিচ্ছন্ন না থাকলে বাচ্চাদের সংক্রমিত হবার সম্ভবনা রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে ।জেলা প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তরের পরিদর্শক সৌমেনচন্দ্র লাহা বলেন, বিদ্যালয় অস্থায়ীভাবে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই স্থায়ী সমাধান হবে। স্কুলের পরিকাঠামোগত যেসব সমস্যা আছে সেগুলো মেটানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে সমস্যা সমাধানের জন্য আরও সক্রিয় হতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ