সংবাদদাতা, বোলপুর: ক্লাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিত হলে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান দীর্ঘদিনের। কিন্তু শিক্ষকদের জন্য তেমন কোনও নিয়ম না থাকায় অনেকেই ক্লাস ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ। তাই, শিক্ষক-অধ্যাপকরা যাতে ক্লাসে নিয়মিত আসেন তার জন্য ‘বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস’ বসাতে উপাচার্যকে দাবি জানালেন বিশ্বভারতীর বিনয় ভবনের পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিশ্বভারতীর শিক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন বিভাগ ও ভবনে পরিদর্শন করছেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। এ দিন তিনি বিনয় ভবনে যান। সেখানে অধ্যাপক, শিক্ষক, কর্মী, আধিকারিক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি সমস্যার কথা জানতে চান। সেখানেই পড়ুয়ারা, শিক্ষক ও অধ্যাপকদের ক্লাসে নিয়মিত হওয়ার বিষয়ের পাশাপাশি মোট ২১ দফা দাবি জানিয়েছেন। উপাচার্য তাঁদের দাবি সমূহ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত ১৯ মার্চ বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী প্রবীরকুমার ঘোষ। যোগদান করার পর থেকেই বিশ্বভারতীতে শিক্ষার হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। তার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার থেকে টানা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন পরিদর্শনের সময়সূচী প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন পরিদর্শন ছিল বিনয় ভবনে। প্রথমে তিনি ভবনের অধ্যক্ষ সমীরণ মণ্ডল, ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতো, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিক ও ভবনের অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা জানতে চান। সেখানে পড়ুয়ারা তাদের ২১ দফা সমস্যার কথা উপাচার্যের সামনে তুলে ধরেন। পড়ুয়াদের দাবি, ভবনে পর্যাপ্ত ক্লাস রুম নেই, বাথরুম পরিষ্কার করা হয় না। অনেক অধ্যাপক, অধ্যাপিকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পড়ুয়াদের অকারণে হয়রানি করেন। দীর্ঘদিন ধরে পঠন-পাঠনের ব্যবহৃত ল্যাব বন্ধ রয়েছে। এই বিষয়গুলি পড়ুয়ারা লিখিতভাবে উপাচার্যকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি, রিভিউ রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ করা, বি এড ও এমএড শিক্ষার্থীদের চাকরির নিয়োগের ব্যবস্থাপনা ও প্লেসমেন্ট সেলকে সক্রিয় করা প্রভৃতি বিষয়ে উপাচার্যের কাছে আলোকপাত করার আর্জি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।
তবে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল, অনেক অধ্যাপক ক্লাসে নিয়মিত নন। তাঁদের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাটেন্ডেন্স ডিভাইস বসাতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন পড়ুয়ারা। বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার অভিযোগ, অধ্যাপকদের একাংশ ভবনে এলেও ক্লাসে যোগদানে বিরত থাকেন। ফলে পড়ুয়াদের সিলেবাস শেষ করতে ঘাম ছুটে যায়। তাতে পরীক্ষার নম্বরে প্রভাব পড়ছে। তাই ক্লাসে অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের আসার বিষয়টি নিয়মিত করতে পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক অধ্যাপকদের উপস্থিতির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, অধ্যাপকদের ও পড়ুয়াদের সঙ্গে উপাচার্যের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যে যে বিষয়গুলিতে সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দ্রুত মেটানোর জন্য উপাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি শীঘ্রই তার সমাধান হবে।