নয়াদিল্লি: মাথা ফেটে ঝরছে রক্ত। গায়ের পোশাক, মুখ ধুলোমাখা। গলা অবধি ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছে এক পড়ুয়া। রবিবার দিল্লিতে ভেঙে পড়া ভবনের অন্দর থেকে সাহায্য চেয়ে এই ভিডিয়ো পাঠিয়েছিল এক পড়ুয়া। যা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, ভিডিয়োতে যে ছাত্রটিকে দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম আদিত্য কুমার। আদতে বিহারের বাসিন্দা আদিত্য প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। ভিডিয়োটি রেকর্ড করেছে বংশ নামের আরেক পড়ুয়া। ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুব সংকীর্ণ একটি জায়গায় আটকে রয়েছেন ওই দু’জন। শুধু আদিত্য বা বংশ নয়, ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও দিল্লির সত্য কলোনির ‘হস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনের নীচে এখনো বহু পড়ুয়া আটকে রয়েছে।
দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থলের উলটো দিকের বিল্ডিং থেকে ভিডিয়ো করেন এক মহিলা। মর্মান্তিক সেই ছবি তুলে ধরতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এতগুলি বাচ্চা! হায় ভগবান! আমরা কেমন জায়গায় বাস করছি? বাঁচাও, ওদের বাঁচাও।’এদিকে হাসপাতালের বাইরে শোকে ভেঙে পড়েছে নিহত পড়ুয়াদের পরিবার। শোকে কার্যত বাকরুদ্ধ তাঁরা। দুর্ঘটনায় মৃতের তালিকায় রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া অক্ষত সিং যাদব। দুঃসংবাদ শুনে সোমবার সকালেই দিল্লি এইমসে এসেছে তাঁর পরিবার। কাঁদতে কাঁদতে অক্ষতের মা বলেন, ‘যাকে ৯ মাস গর্ভে ধারণ করেছি। বড়ো করেছি। আজ তাঁর দেহ দেখতে হচ্ছে। আমাদের ৪ জনের পরিবার আজ তিন জনের হয়ে গেল।’ রাখিতে মধ্যপ্রদেশে নিজের বাড়ি গিয়েছিল অক্ষত। ২দিন আগেই ফিরেছিলেন হস্টেলে।