সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বৃহস্পতিবার নিতুড়িয়া ব্লকের লালপুর রমনীবালা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ফুটবল খেলার পর এক ছাত্রী আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর তাকে দেখে একে একে আরও প্রায় ২০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অসুস্থদের সবাইকে নিতুড়িয়ার হাড়মাড্ডি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ১৩ জনকে ভরতি করা হয় হাসপাতালে। এই ঘটনার পরে একে একে ছাত্রীরা হাসপাতালে আসছে। ফলে পরবর্তী সময়ে ভরতির সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ঠিক কি কারণে ছাত্রীরা অসুস্থ স্বাস্থ্য দপ্তর খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকালের দিকে ছাত্রীরা মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলায় অষ্টম ও দশম শ্রেণির দু’জন সহ বেশিরভাগ নবম শ্রেণীর ছাত্রীরা ছিল। খেলা শেষে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এবং কাঁপতে শুরু করে। অন্যান্য ছাত্রীরা ও শিক্ষকরা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ছাত্রীকে দেখে পাশে থাকা আরও দুই ছাত্রী একইভাবে কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে যায়। পাশাপাশি খিঁচুনি শুরু হয় ও প্রচন্ড জোরে চিৎকার করতে শুরু করে সবাই। এভাবে একে, একে প্রায় ২০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, কারও কান্নাকাটির উপসর্গ দেখা দেয়। খবর পেয়ে স্কুলে চলে আসেন অভিভাবকরা। স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অসুস্থ বাদ দিয়ে বাকি ছাত্রীরা বাড়ি চলে যায়। বাড়ি যাওয়ার পরে একাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। অনেকেই এটিকে ‘ভয়ে’ বা ‘আতঙ্কের’ ঘটনা বলছেন। জেলা পরিষদ সদস্য বাবুজান হেমব্রম বলেন, হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে জানতে পারি ছাত্রীদের মধ্যে হঠাৎ খিঁচুনি হচ্ছে। অনেকে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাচ্ছে। জোরে চিৎকার করছে। ছাত্রীদের পরিবার যাতে আতঙ্কিত না হয় তার জন্য তাদের অভয় দেওয়া হচ্ছে।