Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বিভাগীয় প্রধানের কুপ্রস্তাব, কলেজ ক্যাম্পাসে গায়ে আগুন দিলেন ছাত্রী, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ ওড়িশায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বি এডের ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন কলেজের বিভাগীয় প্রধান। প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হচ্ছিল কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকিও।

বিভাগীয় প্রধানের কুপ্রস্তাব, কলেজ ক্যাম্পাসে গায়ে আগুন দিলেন ছাত্রী, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ ওড়িশায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: বি এডের ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন কলেজের বিভাগীয় প্রধান। প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হচ্ছিল কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকিও। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে গায়ে আগুন দিলেন ২০ বছরের ওই ছাত্রী। ওড়িশার বালেশ্বরের ফকিরমোহন কলেজের এই ঘটনায় ছাত্রীর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। এইমস ভুবনেশ্বরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন আরও এক পড়ুয়া। ওই ছাত্রের দেহও ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। এইমস সূত্রে খবর, ওই ছাত্রীকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। ৮ জন চিকিত্সকের দল তাঁর উপর নজর রাখছেন। ছাত্রীর শ্বাসনালী, কিডনি সহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। পুলিসকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। রবিবার দিল্লি থেকে ফিরেই ওই ছাত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।

Advertisement

এই ঘটনায় কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে ওড়িশার বিজেপি সরকার। ওই ছাত্রীর অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্বিকার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। চাপের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজ বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষকেও।’ যদিও এই বিলম্বিত ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস সামগ্রিকভাবে বিজেপশাসিত রাজ্যগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। রবিবার দলের তরফে এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘আরও একটা দিন, আরও একজন নির্যাতিতা। বিজেপির শাসনে ফের একই ঘটনা।’ ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রধানমন্ত্রী মোদিও এই ঘটনার নিন্দা না করায় ফের প্রমাণ হয়ে গেল ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগান আদতে প্রহসন। এই ঘটনাকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের মিডিয়া সেলের প্রধান পবন খেরা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার শব্দটি এখন নিষ্ঠুর রসিকতা। শাসক দলের একজন সাংসদও কলেজের অধ্যক্ষকে এমন বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলতে পারছেন না।’
ছাত্রীর সহপাঠীরা জানিয়েছেন, ইন্টিগ্রেটেড বি এড বিভাগের প্রধান সমীরকুমার সাহুর কুপ্রস্তাব ও হুমকির জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই তরুণী। তিনি একাধিকবার অধ্যক্ষ ও স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সমীরের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ কমিটি গড়লেও, তদন্তের কিছুই অগ্রগতি হয়নি। শনিবারও অধ্যক্ষ দিলীপকুমার ঘোষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ওই ছাত্রী। তারপরই নিজের গায়ে আগুন দেন তিনি। ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ঘাড়েই চাপিয়েছেন বালেশ্বরের বিজেপি সাংসদ প্রতাপচন্দ্র ষড়ঙ্গী। তাঁর বক্তব্য, ‘কয়েকদিন আগেই ওই ছাত্রী তাঁর বন্ধুকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ ও পুলিস সুপারের সঙ্গে কথা বলি। অধ্যক্ষ আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি পাঁচদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে বিষয়টির সমাধান করবে।’ যদিও পুলিস কেন ব্যবস্থা নিল না, এই প্রশ্নের দায় এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ