Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মা অসুস্থ’, গল্প ফেঁদে সাহায্য চেয়ে ছাত্রের ৫০ হাজার টাকা লুট, কড়েয়ায় গ্রেপ্তার ২

মায়ের অসুস্থতার কথা বলে লিফ্ট চেয়ে বিবিএ পাঠরত ছাত্রের বাইকে চেপে বসেছিল দুষ্কৃতী। বিভিন্ন পথ ঘুরিয়ে তরুণকে আনা হয়েছিল কড়েয়ার একটি বহুতলের নীচে।

‘মা অসুস্থ’, গল্প ফেঁদে সাহায্য চেয়ে ছাত্রের ৫০ হাজার টাকা লুট, কড়েয়ায় গ্রেপ্তার ২
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মায়ের অসুস্থতার কথা বলে লিফ্ট চেয়ে বিবিএ পাঠরত ছাত্রের বাইকে চেপে বসেছিল দুষ্কৃতী। বিভিন্ন পথ ঘুরিয়ে তরুণকে আনা হয়েছিল কড়েয়ার একটি বহুতলের নীচে। বিশেষভাবে সক্ষম অভিযুক্ত সিঁড়িতে ওঠার জন্য সাহায্য চেয়েছিল তাঁর। তাকে নিয়ে উপরে উঠতেই স্বমূর্তি ধারণ করে যুবক। বুকে ছুরি ঠেকিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটের পর অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা ট্রান্সফারে বাধ্য করে ওই দুষ্কৃতী ও তার সঙ্গীরা। ২৩ আগস্ট ঘটনাটি ঘটেছে কড়েয়া এলাকায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে থানা। 

Advertisement

কড়েয়ার বাসিন্দা আফসার মালিক ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে আটটা নাগাদ লোহাপুলের কাছে একটি দোকানে খেতে আসেন। খাওয়া শেষ করে ওই ছাত্র বাইক স্টার্ট করেন বাড়ি ফেরার জন্য। ঠিক সেই সময় বিশেষভাবে সক্ষম এক যুবক কাছে এসে বলে, তার মা নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছে। মায়ের অবস্থা সঙ্কটজনক। ওই তরুণকে হাসপাতালে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে তাকে ছাড়তে রাজি হন তরুণ। গাড়িতে বসে যুবক জানায়, হাসপাতালে কিছু টাকা নিয়ে যেতে হবে। তাই বাড়ি যাওয়ার দরকার। ছাত্রকে একটি বহুতলের সামনে নিয়ে আসে অভিযুক্ত। সে জানায় তিনতলায় উঠতে হবে। বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় তার পক্ষে হেঁটে ওঠা সম্ভব নয়। তাই ওই তরুণকে উপরে দিয়ে আসতে বলে। দু’তলায় ওঠার পরই অভিযুক্ত তার বুকে ছুরি ধরে। সিঁড়িতে হাজির হয় আরও তিন-চারজন। তরুণের কাছে থাকা পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাঁকে একটি ঘরে জোর করে ঢোকায়। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। মারধরের পর আরও কুড়ি হাজার টাকা চাওয়া হয়। অভিযুক্তদের মোবাইল থেকে ওই ছাত্র বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানায়। বাড়ির লোকেরা একটি অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার টাকা পাঠায়। ২৬ আগস্ট আফসার কড়েয়া থানায় অভিযোগ করে। 
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, তরুণের বাবা প্রোমোটারদের কাছে বিভিন্ন জিনিস সরবরাহ করেন। ২৩ আগস্ট দোকানে বার্গার খাওয়ার পর আফসারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন মামা। সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর যে অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর হয়েছিল তার সূত্রেই অভিযুক্তদের নাম জানতে পারে পুলিস। মঙ্গলবার রাতে কড়েয়া এলাকা থেকে রহিম আহমেদ ও সাজিদ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে  পুলিস। আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ