নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকে তিন ধরনের পরীক্ষা চলছে একসঙ্গে। চতুর্থ সেমেস্টার, তৃতীয় সেমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো বার্ষিক পদ্ধতির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীরা তিনটি পরীক্ষার দিন গুলিয়ে ফেলবে না তো! এই আশঙ্কা ছিলই। অবশেষে সেটাই সত্যি হল! শনিবার পুরনো সিলেবাসের ভূগোল সহ অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষার দিনে ইতিহাস পরীক্ষা দিতে এলেন হুগলির উত্তরপাড়া ইউনিয়ন গার্লস হাইস্কুলের এক ছাত্রী। অথচ পুরনো পদ্ধতির ইতিহাস পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন তিনি পরীক্ষা দিতেই আসেননি। তাঁর সিট পড়েছিল উত্তরপাড়া গার্লস হাইস্কুলে (টাউন স্কুল)।
উত্তরপাড়া গভর্নমেন্ট হাইস্কুল (বয়েজ) সেন্টারের অধীনে সাব ভেন্যু হিসেবে রয়েছে গার্লস স্কুলটি। সেন্টার সেক্রেটারি সৌগত বসু বলেন, ‘এরকম একটা সমস্যা হতে পারে ভেবে কিছু শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া ছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু সম্ভবত আর্থিক সংকটের কারণে ফোনে রিচার্জ ছিল না। ইনকামিং বন্ধ ছিল। কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাঁর সঙ্গে।’ এদিন সেই ছাত্রী এসে পুরো বিষয়টি জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সৌগতবাবু বলেন, ‘পরীক্ষার চতুর্থ দিন থেকে সেমেস্টার এবং পুরনো পদ্ধতির রুটিন অনেকটা পালটে গিয়েছে। যতদিন একই রুটিন ছিল, কোনো সমস্যা হয়নি। সবার অ্যাডমিট কার্ডে রুটিন থাকে ঠিকই। তবে চারিদিকে চতুর্থ সেমেস্টারের রুটিন নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। তাই প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ভুল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সব ধরনের পরীক্ষাই আগামীতে একই রুটিনে নিক সংসদ। নাহলে এ ধরনের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা মূলস্তর থেকে বেরিয়ে যাবে।’ অন্যদিকে, এদিন কোচবিহারের ধাংডিংগুড়ি কচুয়া হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী মণীন্দ্রনাথ হাইস্কুলে মোবাইল নিয়ে ধরা পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানের সুশীলা যজ্ঞেশ্বর পাবলিক হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়ে মোবাইল নিয়ে ধরা পড়ে। দু’জনই চতুর্থ সেমেস্টারের ইতিহাস পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাদের এ বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।