নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দাদুর সঙ্গে সাইকেলে চেপে স্কুল থেকে ফেরার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক খুদে পড়ুয়ার। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ঋষভ কর্মকার(৫)। তার বাড়ি রাজগ্রামের রামকৃষ্ণপল্লি এলাকায়। ঋষভ রাজগ্রাম এলাকার একটি নার্সারি স্কুলে পড়ত। শুক্রবার সকালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বাঁকুড়া সদর থানার রাজগ্রাম-পুয়াবাগান রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা এলাকায় যান। তিনি মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন। ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারা নীলাদ্রিবাবুর কাছে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ে অভিযোগ জানান। জবরদখলের কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে বিধায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন। এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা মৃত ছাত্রের পরিবারের পাশে আছি।
বিধায়ক বলেন, বাঁকুড়া মেডিকেলে ওই শিশুকে জখম অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতাল সুপারকে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা শুরুর জন্য বলি। কিন্তু, চোট গুরুতর থাকায় শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। রাস্তার দু’পাশে জবরখল রয়েছে। রাস্তার একাংশেও জল দাঁড়িয়েছে। সেই কারণে এদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে জবরদখলকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি বাঁকুড়া জেল প্রশাসনের আধিকারিকদের বলেছি।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিধায়ক আমাকে ফোন করে জবরদখল সরানোর জন্য বলেছেন। দ্রুত এব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋষভ ওই নার্সারি স্কুলের প্রাক প্রাথমিক বিভাগের ছাত্র ছিল। এদিন সকালে স্কুল ছুটির পর দাদু রঞ্জিত কর্মকারের সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তার উপর জল দাঁড়িয়ে থাকায় রঞ্জিতবাবু বেশকিছুটা ডানদিক ঘেঁষে যাচ্ছিলেন। ওইসময় বাঁকুড়া থেকে খাতড়া অভিমুখে প্রিজন ভ্যানটি যাচ্ছিল। প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে রঞ্জিতবাবুর সাইকেলের কোনোভাবে সংঘর্ষ হয়। তাতে সাইকেল আরোহী দাদু ও নাতি ছিটকে পড়েন। ঋষভ প্রিজন ভ্যানের তলায় পড়ে গেলে পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়। ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ওই শিশুকে বাঁকুড়া মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় শিশুর পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সৌমেন ঘোষাল বলেন, রাস্তার খানাখন্দে রঞ্জিতবাবুর সাইকেলের সামনের চাকা পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তারফলেই গাড়ির সঙ্গে সাইকেলের সংঘর্ষ হয়।