সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের কৌশিকী অমাবস্যা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহু দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তের সুনামি। ভক্তির আবহে তীর্থস্থানে মুখরিত এক পরিবেশ। আর সেখানেই এবার নেমে এল চরম আতঙ্কের ছায়া। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় পুলিশের গালভরা প্রতিশ্রুতি এবং প্রযুক্তিগত ফাঁদ-সবকিছুকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভক্তের ছদ্মবেশে চলল ছিনতাইবাজদের অবাধ তাণ্ডব। জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেন, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০ জনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
কৌশিকী অমাবস্যায় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্র। ব্যান্ডেল, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা একাধিক দুষ্কৃতীদল সাধারণ ভক্তের বেশে মিশে গিয়েছিল জনস্রোতে। মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে রাজপথ—কোথাও ভক্তের মোবাইল গায়েব, কোথাও আবার পকেট কেটে মানিব্যাগ হাতিয়ে নেওয়া। শেষ নয় এখানেও। ভিড়ের ভিতর ভিড় তৈরি করে মহিলাদের সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে দেদার।
অভিযোগের তির সরাসরি পুলিশি নজরদারির বড়সড় গলদের দিকে। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় চার হাজার পুলিশ কর্মী। বসানো হয়েছিল ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ১১টি ওয়াচ টাওয়ার। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তকরণে ব্যবহার করা হয় ড্রোন ও ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার মতো আধুনিক নজরদারির ঢোল পেটানো হলেও বাস্তবে তা
রূপ নেয় ‘বজ্র আঁটুনি ফোস্কা গেরো’-তে। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী পুণ্যার্থীদের। ছিনতাইয়ের সবচেয়ে দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে মন্দির সংলগ্ন দ্বারকা নদের ধারে ৪০ নম্বর গেটের কাছে।
ইন্দ্রানী সাহা নামে এক মহিলার অভিযোগ, তাঁর স্বামীর গলায় থাকা বহুমূল্যের সোনার হার ছিনতাইয়ের পর দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পুলিশ আসার আগেই তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে চম্পট দেয় তারই দলবল। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। ইদ্রানী সহ ক্ষুব্ধ ভক্তেরা কন্ট্রোল রুমেই ফেসবুক লাইভ করে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরেন। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। রাজদীপ মণ্ডল নামে এক
সরকারি কর্মীর দামি মোবাইল উধাও হয়ে যায়। ইন্দ্রানী ও রাজদীপ উদাহরণ মাত্র। এরকম বহু পুণ্যার্থী তাঁদের সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানাতে লম্বা লাইন পড়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই, হারিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রায় ৬৫ জনকে ধরাও হয়েছে। তাদের মধ্যে ভেরিফিকেশনের পর কয়েকজন ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ১২টি মোবাইল, ৫টি সাইড ব্যাগ এবং একটি বাইক। এছাড়া ১০টি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতরা ব্যাণ্ডেল, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।