সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের কয়েকজন আধিকারিকের মদতেই রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়েছিল ডাক্তারির ভুয়ো রেজিস্টেশন চক্র। ‘বর্তমান’-এর খবরে জেরে তদন্তে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। মেডিকেল কাউন্সিলের একাধিক আধিকারিকের পাশাপাশি চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া প্রায় ১০০জন স্ক্যানারে রয়েছেন। তাঁদের নথি যাচাইয়ের পর্ব শুরু হয়েছে। তাঁদের কেউকেউ বিহার থেকে এমবিবিএস পড়ার নথি কাউন্সিলে জমা দেন। বিহার মেডিকেল কাউন্সিলকে স্বাস্থ্যদপ্তর চিঠি দিয়ে তাঁদের সম্পর্কে জানতে পেরেছে। স্বাস্থ্যদপ্তর চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া নির্দিষ্ট একজনের সম্পর্কেও বিহার কাউন্সিলারের কাছে জানতে চেয়েছিল। সেখান থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই নামে কেউ ডাক্তারি পাশ করেনি। ওই ব্যক্তির মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক চিকিৎসক রাজীব পান্ডে বলেন, ওই ব্যক্তি ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাঁর মতো আরও অনেকেই ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে চিকিৎসা করছেন। পড়াশোনা না করেই তাঁরা ‘ডাক্তার’ হয়ে গেলেন। এটা ভাবতেও অবাক লাগে। তবে এখন আর কেউ ছাড় পাবে না। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্য থেকে ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে এসে ওই চিকিৎসকরা মেডিকেল কাউন্সিলে নথি জমা করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা যে রাজ্য থেকে ডাক্তারি পাশ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন, সেখানকার কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত ছিল। সেই সব না করেই কেন তাঁদের এরাজ্যে ডাক্তারি করার অনুমতি দেওয়া হল তা নিয়েই রহস্য রয়েছে। ২০১৮, ২০২২ সালে এরকম নথি মেডিকেল কাউন্সিলে জমা হয়েছিল। এক আধিকারিক বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। টেকনিসিয়ান বা ওয়ার্ডবয়ের কাজ করতে করতেই তাঁরা নকল নথি জোগাড় করে ডাক্তার হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন নামী নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালে তাঁরা অপারেশন করেছেন। কতজন তাঁদের হাতে মারা গিয়েছে তার ঠিক নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে। ভুয়ো ডাক্তারদের জেলে যেতে হবে। রাজ্যজুড়েই অভিযান চলবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর পরই বিষয়টি সামনে আসে। একজন চিকিৎসকের কাছে ফাইমোসিস অপারেশন কোনো জটিল বিষয় নয়। অথচ সেই অপারেশন করতে গিয়েই শিশুর মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক অপারেশন করেছিলেন। তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি স্বাস্থ্যদপ্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপরই আসল ঘটনা সামনে আসে। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মৃত শিশুর পরিবার ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে।