Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাগীরথীর দু’কূল ছাপিয়ে জল ঢুকছে গ্রামে, ভাঙছে পাড়ও, দিশাহারা মুর্শিদাবাদবাসী

ভাগীরথীর জলে ফের প্লাবিত মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবারও দু’কূল ছাপিয়ে জল ঢুকছে লোকালয়ে।

ভাগীরথীর দু’কূল ছাপিয়ে জল ঢুকছে গ্রামে, ভাঙছে পাড়ও, দিশাহারা মুর্শিদাবাদবাসী
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভাগীরথীর জলে ফের প্লাবিত মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবারও দু’কূল ছাপিয়ে জল ঢুকছে লোকালয়ে। গত বুধবার থেকেই ফরাক্কা, সূতি, সামশেরগঞ্জ এবং রঘুনাথগঞ্জ এই তিন ব্লকেরই নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন। এরমধ্যেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন কয়েক হাজার পরিবার।

Advertisement

ফরাক্কা ব্যারাজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে বলেন, বর্তমানে ফরাক্কা ব্যারাজে ১৭.৯৯ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ভাগলপুরেও জল চাপ কমেছে। শুক্রবার বা শনিবার থেকে জল কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই বন্যার কোনো আশঙ্কানেই। তবে, নদীর উপর নজর রাখা হচ্ছে।  এলাকাবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কার খোদাবন্দপুর, মুস্কিনগর ও সাঁকোপাড়ার মতো একাধিক গ্রাম এখন জলবন্দি। গৃহপালিত পশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এলাকার মানুষ। চরকুলি দিয়ার নয়নসুখ এলাকাতেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদীর পাড় ভেঙে  হু-হু করে ঢুকছে জল। একই ছবি সামশেরগঞ্জের ইউসুফপুরেও। সেখানে লোকালয়ে জল ঢুকে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। পার্শ্ববর্তী সূতির লক্ষীপুরে এলাকায় নদীর জল ঢুকছে। গঙ্গার পাশাপাশি পদ্মার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। সেকেন্দ্রার খেজুরতলা ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকোটি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা একপ্রকার বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, বড়শিমুল গ্রামে নদীর জল ঢুকে ডুবেছে রাস্তাঘাট। অনেক জায়গায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে হাঁটু সমান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই জল বাড়ছে। নিত্যনতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। নদীতে জলবৃদ্ধি হতেই ফরাক্কার নয়নসুখ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রঘুনাথগঞ্জ ও লালগোলার মধ্যবর্তী তারানগরেও গত কয়েকদিন ধরে ভাঙছে গঙ্গার পাড়। ইতিমধ্যেই কয়ক বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
আতঙ্কের আবহেই আশার আলো দেখাচ্ছে জেলা সেচ দপ্তর। জঙ্গিপুর সেচদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, উজানের বৃষ্টির কারণেই নদীতে সাময়িকভাবে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার জেরে নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও নাগালের বাইরে যায়নি। দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী এক, দু’দিনের মধ্যেই গঙ্গা ও পদ্মায় জল কমতে শুরু করবে। এই মুহূর্তে বড়সড় কোনো বন্যার সম্ভাবনা নেই। নদীপাড়ের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সেচদপ্তরের এই আশ্বাস সত্ত্বেও স্বস্তি নেই গঙ্গা পাড়ের বাসিন্দাদের। ভিটেমাটি আর ঘরের সহায়-সম্বল রক্ষায় দিশাহারা তাঁরা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ