নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: মাত্র ১৮ বছর বয়সে হৃদরোগে মৃত্যু! নিক্কোপার্কে ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। যা বিস্ময়কর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর জি কর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানেই বৃহস্পতিবার রাহুল দাসের ময়নাতদন্ত করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, তাঁর বয়সি আর পাঁচজন স্বাভাবিক ছেলের তুলনায় রাহুলের হার্ট ও প্লিহা আকারে খানিকটা বড়। প্রাথমিক রিপোর্টে, মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলেই অনুমান করছেন চিকিৎসকরা। যদিও, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর দেহাংশ ও দেহ রসের নমুনা (ভিসেরা) ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই রিপোর্ট মিলতে পারে।
চিকিৎসকের কথায়, ৫-১০ বছর আগেও হৃদরোগে মৃত্যু হলে দেখা যেত, তাঁদের অধিকাংশেরই বয়স ৫০ বছরের উপরে। কিন্তু, করোনার পর ক্রমশ কমছে এই বয়স সীমা। ৫০ বছর থেকে নেমে ৪০। এমনকী, ৩০ বছরের নীচেও হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে একাধিক তরুণ ও তরুণীর।
প্রসঙ্গত, বুধবার চার বন্ধু ও দুই বান্ধবীর সঙ্গে শহরের নিক্কোপার্কে বেড়াতে এসেছিলেন উল্টোডাঙার রাহুল দাস। তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর ১০ মাস। বিবিএ’র দ্বিতীয়বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। ওয়াটারপার্কে তিনি অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে যান। সেখান থেকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, কীভাবে একজন তাজা তরুণের মৃত্যু হল, তা নিয়ে পরিবারের লোকজনও হতবাক। ওইদিন রাতেই রাহুলের বাবা সত্যজিৎ দাস বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিক্কোপার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে মৃতের বাবা লিখেছেন, ‘আমার পুত্র সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় বেরিয়েছিল। কেন, কী অবস্থায় আমার পুত্রকে হারাতে হল তাঁর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আমি চাই।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার পুত্রের পায়ের বুড়ো আঙুলে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও বাঁ হাতেও একটি ক্ষতচিহ্ন দেখেছি। ওর শরীর সম্পূর্ণ নীল হয়ে গিয়েছিল।’ গাফিলতিতে মৃত্যুর ঘটনা, ১০৬ (১) বিএনএসে পুলিস মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিক্কোপার্ক কর্তৃপক্ষ এদিন জানিয়েছে, ‘গাফিলতির প্রশ্নই নেই। দেখা মাত্রই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৫ মিনিটের মধ্যে ওই পড়ুয়াকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আছে।’