নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আরব সাগরের পাড়ে তখন মায়াবী সন্ধ্যা নেমেছে। চারদিকে আলো ঝকমক করছে। মেমারির সাগর আলির চোখ থেকেও যেন এক অদ্ভুদ রশ্মি ঠিকরে পড়ছিল। স্বপ্ন পূরণের আলো। কাছে থেকে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার আনন্দে তখন তিনি উদ্বেলিত। পাশে দাঁড়িয়ে শচীন তেণ্ডুলকর, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার তাঁর প্রশংসা করছেন। বাস্তবে এমনটা হলে যেকেউ সেই স্বপ্নের জগতে পাড়ি দেবে সেটাই স্বাভাবিক। সফলতার সিঁড়ি ভেঙে সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন মেমারির কাশিয়াড়া গ্রামের সাগর।
Advertisement
মুম্বইয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা স্ট্রিট প্রিমিয়ার লিগ। সেই লিগে ৪৯৩ রান করে সিরিজের সেরা হয়ছেন তিনি। মঞ্চে পুরস্কার দেওয়ার সময় বিগবি পিঠ চাপড়ে বলছেন, ‘সাবাশ বেটা’। মাস্টার ব্লাস্টার তাঁর কাছে অভিব্যক্তি জানতে চাইছিলেন। উত্তর দিতে দেরি করেননি সিরিজের নায়ক। তিনি বলেন, ‘স্যার আপনার খেলা দেখে বড় হয়েছি। এই আনন্দ প্রকাশ করার ভাষা নেই।’ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছিলেন অক্ষয় কুমার। তাঁর দল শ্রীনগরের হয়েই ব্যাট ধরেছিলেন সাগর। য সাগর আরও বলেন, ছোট থেকেই ক্রিকেট খেলে আসছি। অনেক পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু এই সিরিজের সেরা হওয়া আমার কাছে স্বপ্ন। আগামী দিনে আরও বেশি করে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাব। সোমবার মুম্বই থেকে ঘরে ফিরেছেন সাগর। তার আগে কলকাতায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানান রাজ্যর মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন এলাকার বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। বিধায়ক বলেন, তাঁর এই সফলতা আমাদের গর্বিত করেছে। সাগর আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাক। স্থানীয়রা বলেন, শচীন তেণ্ডুলকরের প্রথম সেঞ্চুরি দেখে গাভাসকার বলেছিলেন এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি রয়েছে। মেমারির বাসিন্দারাও মনে করছেন সাগরের কাছেও অনেক পাওনা বাকি রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তাঁর সাফল্যের কাহিনী গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। গ্রামে ফিরতেই এদিন উৎসবের আমেজ শুরু হয়। হুডখোলা গাড়িতে চড়িয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। ঘরের ছেলেকে দেখার জন্য স্থানীয়রা ভিড় করেন।
সাগরের বাবা আমানত আলি বলেন, ছেলে খুব কম বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলে আসছে। করোনার সময় কিছুদিন খেলা বন্ধ ছিল। তারপর আবার সে ময়দানে নামে। সাগরের গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, একবার ব্যাট হাতে ময়দানে নামলে তাঁকে ফেরানো কঠিন। বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠানো তাঁর বরাবরের অভ্যাস। ছক্কা হাঁকিয়েছেন আরবসাগরের পাড়েও। তা দেখে প্রশংসা করতে ভোলেননি বিগ বি থেকে মাস্টার ব্লাস্টার।
মঞ্চে উঠে পুরস্কার নেওয়ার সময় তাঁর বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল অল্প বয়স থেকে সংগ্রামের কথা। শচীন হাতে ট্রফি তুলে দিতেই তাঁর চোখেমুখে আনন্দের ছবি ফুটে উঠছিল। আর হবেই না বা কেন। জীবনটা বদলে গেল যে!
সাগরের বাবা আমানত আলি বলেন, ছেলে খুব কম বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলে আসছে। করোনার সময় কিছুদিন খেলা বন্ধ ছিল। তারপর আবার সে ময়দানে নামে। সাগরের গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, একবার ব্যাট হাতে ময়দানে নামলে তাঁকে ফেরানো কঠিন। বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠানো তাঁর বরাবরের অভ্যাস। ছক্কা হাঁকিয়েছেন আরবসাগরের পাড়েও। তা দেখে প্রশংসা করতে ভোলেননি বিগ বি থেকে মাস্টার ব্লাস্টার।
মঞ্চে উঠে পুরস্কার নেওয়ার সময় তাঁর বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল অল্প বয়স থেকে সংগ্রামের কথা। শচীন হাতে ট্রফি তুলে দিতেই তাঁর চোখেমুখে আনন্দের ছবি ফুটে উঠছিল। আর হবেই না বা কেন। জীবনটা বদলে গেল যে!



